


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এসআইআর আতঙ্কে আগরপাড়ায় প্রৌঢ়ের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার পানিহাটিতে প্রতিবাদ মিছিল বেরোয়। দলীয় পতাকা ছাড়াই ওই মিছিলে অংশ নেন আগরপাড়ার বহু মানুষ। ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরাও। অন্যদিকে, মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। এমনকি, মৃতের সুইসাইড নোট ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আগরপাড়ার মহাজাতিনগরের ব্যবসায়ী প্রদীপ কর (৫৭) আত্মঘাতী হন। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর দেহের পাশ থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। তাতে তিনি তাঁর মৃত্যুর জন্য এনআরসি-কে দায়ী করেছিলেন। তবে প্রদীপবাবুর ডানহাতের চারটি আঙুলের অর্ধেক কাটা থাকায় তিনি কোন হাতে লিখেছেন, আদৌ এই লেখা তাঁর, নাকি অন্য কেউ লিখে ‘চিত্রনাট্য’ সাজিয়েছে—তা নিয়ে ঘটনার দিন থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও মৃতের পরিবার ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়েছে। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এছাড়া আন্দোলনের রূপরেখা স্থির করে স্লোগান তোলেন, ‘সারা বাংলার একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই স্লোগানে গর্জে ওঠে পানিহাটি। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ আগরপাড়া স্টেশন চত্বর থেকে প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই মিছিলে বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে প্রমুখ ছিলেন। মিছিল শেষ হয় বিটি রোডের তেঁতুলতলা মোড়ে। পার্থ ভৌমিক বলেন, এনআরসি ও এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির ক্রমাগত হুমকির শিকার প্রদীপবাবু। তাঁর পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মৃতের পরিবারের পাশে ইতিমধ্যেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদে নেমেছেন। তাতে শামিল হয়েছি আমরাও।
অন্যদিকে, মৃতের ভ্রাতৃবধূ মৌসুমি কর গত ২৮ তারিখ খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে ঘটনার পুঙ্খনাপুঙ্খ তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি লেখেন, উনি এনআরসি আতঙ্কে ভুগছিলেন। আমার মনে হচ্ছে, এনআরসির নামে কেন্দ্রীয় সরকার আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। এসআইআর ঘোষণার ফলেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। খড়দহ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১০৮ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাটির পুলিশি তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় কেস দায়ের হয়েছে। গাইডলাইন মেনে সুইসাইড নোট ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। প্রদীপ তাঁর পরিচিত কারও কাছে এনআরসি বা এসআইআর নিয়ে কখনও আতঙ্ক প্রকাশ করেছিলেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র