নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের উপর আরও শক্তি বৃদ্ধি করে অর্ণব খুব তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। আগামীকাল বুধবার দুপুরের আগেই প্রবেশ করবে স্থলভূমিতে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনো জায়গা দিয়ে। অনুমান করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল হবে অন্ধ্র লাগোয়া পুদুচেরির ইয়ানাম এলাকা। এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে অন্ধ্রপ্রদেশ-পুদুচেরি এবং দক্ষিণ ওড়িশায়। তবে স্থলভূমিতে প্রবেশ করার সময় অর্ণবের যে গতিপ্রকৃতি থাকবে তার প্রেক্ষিতে তেলেঙ্গানা ও ছত্তিশগড়কেও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এই রাজ্যগুলির এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা এই বৈঠকে ছিলেন। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ ওইসব জায়গায় বেশি পরিমাণে বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে সোমবার দিল্লিতে ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমানাথন ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠক করেন। ঘূর্ণিঝড়ে যাতে কোনোরকম মৃত্যু না-হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যতটা সম্ভব কমানো যায়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যগুলিকে তৎপর হতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সতর্কতার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ নেই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস অবশ্য জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় স্থলভূমিতে প্রবেশের পর এটির যে গতিপথ হবে তার জন্য পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা বৃষ্টি হবে। গতিপথ অন্য হলে এই বৃষ্টিও হত না। উপকূলবর্তী ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হবে। বুধ ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওই দুদিন দক্ষিণবঙ্গে সাধারণভাবে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হবে। আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয়ার্ধে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, হাওড়া জেলা ও কলকাতার কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া এলাকার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গড় গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিমি। তবে দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। উপকূল অতিক্রম করার পর অর্ণব শক্তি কিছুটা হারিয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তবে তখনো ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৭০-৮০ কিমি (দমকা ৯০ কিমি) থাকবে। বৃহস্পতিবার এটি আরও দুর্বল হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপ হবে এবং তারপর আরও দুর্বল হতে থাকবে। দুর্বল হয়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়ের অংশ ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তরপ্রদেশের দিকে যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকাবেরর তরফে ঘূর্ণিঝড় প্রভাবিত এলাকায় মানুষকে আগাম নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টারগুলি। এনডিআরএফ এবং রাজ্যগুলির এসডিআরএফ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে ও কন্ট্রোল রুম চালু করে পরিস্থিতির উপর সবসময় নজর রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী ও বায়ুসেনাকেও। ওড়িশা ও অন্ধ্র সরকার যুদ্বকালীন তৎপরতায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে।



