ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে কৃষ্ণনগরে বৃষ্টি কালীপ্রতিমা নিয়ে চিন্তিত মৃৎশিল্পীরা
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : কালীপুজোর আগে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় নতুন করে চিন্তায় পড়েছেন কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে কয়েকদিন ধরেই আকাশ মেঘলা। তার উপর শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। ফলে পর্যাপ্ত রোদ না মেলায় প্রতিমা শুকানো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিল্পীদের। হাতে আর বেশি সময় নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিমা তৈরি করে রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হবে। তাই আবহাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় প্রতিমা শুকানোর কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। কোথাও পাখা চালিয়ে, আবার কোথাও কাঠ-কয়লার আগুনের সাহায্যে ঠাকুর শুকানোর কাজ চলছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন মৃৎশিল্পালয়ে এখন কালীপুজোর প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কিন্তু মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে মাটির প্রতিমা ঠিকমতো শুকোতে পারছে না। প্রতিমা ভালোভাবে না শুকোলে রং করার কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে সময়ের চাপ, অন্যদিকে আবহাওয়ার বাধা—দুইয়ের মধ্যে পড়ে সমস্যায় শিল্পীরা। দ্রুত প্রতিমা শুকিয়ে রং করে সাজিয়ে তোলার জন্য বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁদের। ফ্যান ও কাঠ-কয়লার আগুনের সাহায্যে প্রতিমা শুকানোর চেষ্টা চলছে বিভিন্ন শিল্পালয়ে। তবে এই পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে।
মৃৎশিল্পীদের কথায়, প্রতিমা শুকানোর জন্য রোদের খুব প্রয়োজন। রোদ থাকলে মাটির ঠাকুর সহজে শুকিয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘলা থাকায় সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এবছর প্রতিটি পুজোর আগেই কমবেশি আবহাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের। কালীপুজোর আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা ভাবতে পারেননি শিল্পীরা। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে বিকল্প ব্যবস্থা করেই কাজ চালাতে হচ্ছে।
সঞ্জীব পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন,  মেঘলা আবহাওয়ায় মাটির প্রতিমা শুকানো খুবই কঠিন। ভালোভাবে না শুকোলে রং করা যায় না। কালীপুজোর আগে এমন আবহাওয়া হওয়ায় আমরা বেশ চিন্তায় রয়েছি।প্রতিমা শুকোতে দেরি হওয়ায় রং ও সাজসজ্জার কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে।
মেঘলা আকাশ আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির কারণে প্রতিমা শুকানোর কাজ ব্যাহত হলেও থেমে নেই কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পালয়গুলি। ফ্যান ও কাঠ-কয়লার আগুনের সাহায্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা। তবে পুজোর আগে দ্রুত রোদ না উঠলে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা তাঁদের।