নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উৎসবের দিনগুলির জন্য তাকিয়ে ছিলেন চাষি ও আলু ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করেছিলেন, পুজোর সময় থেকে আলুর দাম বাড়তে শুরু করবে। কিন্তু, ঘটেছে তার উলটো। আলুর বন্ডের দাম আরও কমে গিয়েছে। আলুর এক বস্তা ফ্রি বন্ডের দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও খারাপ। চাষিরা বলছেন, ঝাড়াই বাছাই করার পর আলু ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি হলে লাভ তো দূর চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আলু ব্যবসায়ী জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, উত্তরপ্রদেশের আলু বিহার, ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছে। বাংলার আলুর চাহিদা নেই। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫৪ শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বেরিয়েছে। আর দাম বাড়ার কোনো সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, গত মরশুমে মোট ১৬ কোটি ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত হয়েছিল। ৩০ সেপ্টম্বরের হিসাব অনুযায়ী ৮ কোটি ৫৮ লক্ষ ১০হাজার ৯৯৪ প্যাকেট আলু বেরিয়েছে। অক্টোবর মাসেও খুব বেশি আলু বের হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছর পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই আলুর দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু, এবার সেই চাহিদা তৈরি হয়নি। পুজোর দিনগুলির কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা প্রচুর আলু মজুত করেন। ফলে আলুর দাম কিছুটা বাড়ে। কিন্তু, সেটাও এবার দেখা যাচ্ছে না। এবছর পূর্ব বর্ধমানে ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৯৫হাজার ৪৪৪ প্যাকেট আলু মজুত হয়েছিল। মেদিনীপুরে ৩ কোটি ৬৩লক্ষ ২৭হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত হয়। সব থেকে বেশি আলু হুগলি জেলায় মজুত হয়েছিল।
আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, এরকম অবস্থা চলতে থাকলে চাষিরা আলু চাষে উৎসাহ হারাবেন। সারের দাম আকাশছোঁয়া। অথচ আলু বিক্রি হচ্ছে জলের দামে। আগামী দিনে দাম আরও কমে যাবে। হিমঘর থেকে আলু বের করা দায় হবে। বাংলা থেকেই বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসমে আলু যেত। তাতে চাহিদা বাড়ত। কিন্তু, এবার ওই সব রাজ্যেও অন্য জায়গা থেকে আলু ঢুকছে। বাংলার আলু সেভাবে অন্য রাজ্যে যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিপুল পরিমাণ আলু হিমঘরে থেকে যাবে। ডিসেম্বর মাসে ফি বন্ডের দাম অনেকটা কমে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। হয়তো আলু বিক্রি করার লোকই পাওয়া যাবে না।



