Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬

ভোট-হিংসা বরদাস্ত নয়, কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা শুরু হয়ে গিয়েছে। গণনার সময় থেকেই। বিজেপির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে। আর তাতেই প্রবল ক্ষুব্ধ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

ভোট-হিংসা বরদাস্ত নয়, কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা শুরু হয়ে গিয়েছে। গণনার সময় থেকেই। বিজেপির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে। আর তাতেই প্রবল ক্ষুব্ধ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যজুড়ে এভাবে হিংসা, অরাজকতা কারা ছড়াচ্ছে? এর পিছনে কি নির্দিষ্ট কোনো প্যাটার্ন আছে? কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এসব কীভাবে হচ্ছে? আইবির পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটকে অবিলম্বে রিপোর্ট দিতে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মন্ত্রকের সাফ বার্তা, বাংলায় কোনো অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। রং না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দেশ কখন? অমিত শাহ নিজেই আজ, বুধবার কলকাতায় পা রাখার ঠিক আগে। 

Advertisement

কলকাতা থেকে জেলা—৪৮ ঘণ্টা ধরে চলছে তূণমূলের উপর হামলা। পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ। ভাঙচুর। সংঘর্ষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সদ্য জয়ী বিধায়কদের একাংশ বারংবার দিনভর বিবৃতি দিয়ে এই প্রবণতার নিন্দা করছেন। শমীকবাবু স্পষ্ট বলেছেন, ‘এরকম যারা করবে, তারা দলের কেউ হলেও তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে।’ শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার বলেছেন, ‘শান্তি বজায় রাখুন।’ তাও অশান্তি থামছে না। মঙ্গলবারই পশ্চিমবঙ্গে ভোট-হিংসায় চারজনের প্রাণ গিয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপির অভিযোগ, যুক্তরা সবাই নব্য বিজেপি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর রাতারাতি বিজেপিতে এসে দলেরই বদনাম করছে। আবার বিজেপির আর একটি অংশের অভিযোগ, পুরোটাই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কিন্তু পালাবদলের পর এই ঘটনাক্রমে কিন্তু ধাক্কা লাগছে বিজেপির ভাবমূর্তিতেই। সবচেয়ে বড়ো কথা, আধাসেনার উপস্থিতিতেই হিংসা চলছে। সেটাই ক্ষোভের কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। তাদের প্রশ্ন, বাহিনী কী করছে? স্থানীয় পুলিশ এই হিংসা চলতে দিচ্ছে কেন? বিশেষত, অমিত শাহ রাজ্যে থাকাকালীন খাস কলকাতা ও জেলায় জেলায় হিংসা, অরাজকতা, মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে... সেটা তাঁর মন্ত্রক একেবারেই বরদাস্ত করবে না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কঠোর হাতে যে কোনো হিংসা দমন করতে হবে। রং দেখার প্রশ্ন নেই। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও মন্ত্রক উদ্বেগ জানিয়েছে। অমিত শাহের সফরের আগেই যেন বাংলা শান্ত হয়ে যায়—মরিয়া হয়ে সেটাই চাইছে কেন্দ্র। বস্তুত, কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে বার্তা পেয়েই রাজ্যের জয়ী বিজেপি বিধায়করা বাড়তি সক্রিয় হয়েছেন। তাঁরা নিজেদের বিধানসভা এলাকায় স্পষ্টভাবে দলকে জানাচ্ছেন যে, এই কালচার আর চলবে না। কেন্দ্রীয় বিজেপি এদিন বার্তা দিয়েছে—একাধিক রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। কোথাও বদলার রাজনীতি হচ্ছে না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বদলা নয়, বদল চাই। অথচ তা সত্ত্বেও কেন নীচুতলায় এই বার্তা ও হুঁশিয়ারি যাচ্ছে না? এই প্রশ্নেই বিরক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ