নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামীকাল শুক্রবার যে নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে তার প্রভাবে মধ্য ভারতে বর্ষা সক্রিয় হবে। আশা করছে আবহাওয়া দপ্তর। দেশের এই অংশে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৫০ শতাংশের মতো বৃষ্টির ঘাটতি আছে। মৌসুমি বায়ু এদিন দেশে আরো কিছুটা অগ্রসর হয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানায় প্রবেশ করেছে। হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং লাদাখসহ জম্মু ও কাশ্মীরের সমগ্র অংশে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। এছাড়া শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাতের আরো কিছু এলাকায়। দিনদুয়েকের মধ্যে রাজস্থান ও দিল্লিতে বর্ষা প্রবেশের আশা করছে আবহাওয়া দপ্তর।
নিম্নচাপের প্রভাবে রাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। আগামী শনিবার থেকে কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। রবি ও সোমবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার জন্য ‘কমলা’ সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে রবিবার। মঙ্গলবারও উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি উপকূল অতিক্রম করার পর কোন দিকে যাবে সেটা এখনো বলা হয়নি। তবে এই সময়ের নিম্নচাপগুলির প্রভাব বড়ো এলাকা জুড়ে থাকে। তাই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে মধ্য ভারতের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এদিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায়, বৃষ্টির ঘাটতি তালিকা থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেছে বাঁকুড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি—১৩০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বৃষ্টি হয়েছে—১০০ থেকে ৬০ মিমি।