নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মাত্র আধ ইঞ্চির একটি তেঁতুলের বীজ। সাধারণত তেঁতুল খেয়ে বীজ ফেলে দেয় সবাই। কেউ কেউ রেখেও দেন। তা দিয়ে এমন কিছু বানিয়ে ফেলেন যা দেখে তাক লেগে যায়। অশোকনগরের কচুয়ার শিল্পী বাসুদেব পাল সেরকমই একজন। যিনি রেখে দেওয়া তেঁতুলের বীজকে ক্যানভাস বানিয়ে এঁকে ফেলেছেন ছবি। আধ ইঞ্চির তেঁতুলের বীজটির উপর বাসুদেববাবু এঁকেছেন রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি। ভালো করে দেখার জন্য আতসকাচের সাহায্য নিয়েছেন। সরু তুলি আর গোটা পাঁচেক রং ব্যবহার করে তৈরি করেছেন এই সুন্দর প্রতিকৃতিটি। আজ, সোমবার কলকাতায় রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমকে শিল্পকর্মটি দিয়ে দেবেন তিনি। এই রিডিং রুমটি ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের টাকায় পরিচালিত। স্বায়ত্ত্বশাসিত কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা। যা সারা দেশে গণ গ্রন্থাগার পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। বাসুদেব পাল বলেন, ‘রাজা রামমোহন রায় সমাজসংস্কারক। নবজাগরণের নেতৃত্ব স্থানীয়। নারীশিক্ষা, সতীদাহ প্রথা রদ থেকে আধুনিক চিন্তার বীজ তিনি বপন করে গিয়েছিলেন ভারতে। তা আজও আমাদের পথ দেখায়। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই এই প্রতিকৃতি আঁকার চেষ্টা করেছি। শিল্পের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে রামমোহনের আদর্শকে পৌঁছে দেওয়াই আমার বড়ো প্রাপ্তি।’ উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র শিল্পকর্ম বানিয়ে সাফল্য অবশ্য বাসুদেবের জীবনে নতুন কিছু নয়। এর আগে দুধের উপর দুর্গার প্রতিকৃতি এঁকেছেন। সাবুর দানায় ফুটিয়ে তুলেছেন ভারতের মানচিত্র। মুসুর ডালের উপর এঁকেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখচ্ছবি। উচ্ছের বীজে তৈরি করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি। ফুটবল তারকা মেসির প্রতিকৃতিও করেছেন। এই ক্ষুদ্র ক্যানভাসে তাঁর সঙ্গী আতসকাচ, হালকা তুলি। সঙ্গে ভরসা অসীম ধৈর্য। নিজের শিল্পচর্চার স্বীকৃতি পেয়েছেন শিল্পী বাসুদেব। তাঁর নাম জ্বলজ্বল করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। নিজস্ব চিত্র



