


গুয়াহাটি: লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন বা নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করা হোক! এই দাবি আগেই উঠেছিল। এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলেও বিষয়টা উল্লেখ করল হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। সোমবার অসম বিধানসভায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করেছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। সেখানেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং লিভ-ইন সম্পর্কের নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অসমের তপশিলি উপজাতি-দের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না।
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার তরফে সংসদীয় মন্ত্রী অতুল বোরা ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম, ২০২৬ বিল’ পেশ করেন। যার বিরোধিতায় সরব হয় কংগ্রেস, রাইজর দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। এ বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানায় তারা। বিলের ‘স্টেটমেন্ট অফ অবজেক্ট অ্যান্ড রিজনস’-এ মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিলের মূল উদ্দেশ্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্ক সংক্রান্ত আইনকে একত্রিত ও সহজ করা। বিলে পুরুষদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মহিলাদের জন্য ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর আইনি অধিকার সুরক্ষিত করতে বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে। এর ফলে ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলেই দাবি সরকারের। পাশাপাশি, লিভ-ইন সম্পর্কের জন্যও একটি আইনি কাঠামো আনার কথা বলা হয়েছে। বিয়ের আগে সম্পর্ক নথিভুক্ত করলে, সেই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার আইনিভাবে স্বীকৃতি পাবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন আধুনিকীকরণ করে সম্পত্তির ন্যায্য ও সমান বণ্টন নিশ্চিত করার কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর করতে রেজিস্ট্রার নিয়োগ-সহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত আরও বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে নাগরিকদের জন্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়নের চেষ্টা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসমে সেই নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। যাতে ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সব বাসিন্দার জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়।