Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টাকা বিলি করতে এসে আটক, অসমের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সহ ২ জনকে ‘মুক্তি’ দিল পুলিশ, হিঙ্গলগঞ্জের ঘটনায় বিতর্ক শুরু

ভোটের মুখে ফের ‘টাকা বিলির রাজনীতি’! হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির বিরুদ্ধে উঠল এমনই মারাত্মক অভিযোগ। আর এই অভিযোগ ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়।

টাকা বিলি করতে এসে আটক, অসমের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সহ ২ জনকে ‘মুক্তি’ দিল পুলিশ, হিঙ্গলগঞ্জের ঘটনায় বিতর্ক শুরু
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: ভোটের মুখে ফের ‘টাকা বিলির রাজনীতি’! হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির বিরুদ্ধে উঠল এমনই মারাত্মক অভিযোগ। আর এই অভিযোগ ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। তৃণমূলের দাবি, সংগঠনিক দুর্বলতা আর জনসমর্থনের অভাব ঢাকতেই রাতের অন্ধকারকে হাতিয়ার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। তবে, অভিযুক্তদের মঙ্গলবার রাতে আটক করার পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর এখানেই কমিশনের ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ন’টা নাগাদ হিঙ্গলগঞ্জের স্যান্ডেল বিল এলাকার ৯ নম্বর মেঠোপাড়ায় একটি ক্লাব ঘিরে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে।

Advertisement

অভিযোগ, অসমের বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর নাথ, বিজেপি নেতা তরুণ মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের হাতে নগদ টাকা তুলে দিচ্ছিলেন। এলাকায় গোপনে টাকা বিলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। অনেকেই সরাসরি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে মানুষের মত বদলাতেই এই ‘টাকার খেলা’। এর জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে হাসনাবাদের এসডিপিও-র নেতৃত্বে হিঙ্গলগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। জেরায় ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, বিজেপি নেতাদের কাছ থেকেই তিনি টাকা পেয়েছেন। এরপর একটি দামি গাড়ি সহ বিজেপি নেতা কিশোর নাথ ও তরুণ মণ্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ঘটনাস্থলে পুলিশি তৎপরতা ঘিরে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। বুধবার দুপুরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তাঁদের ‘মুক্ত’ করা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন, টাকা বিলি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ার পরেও, নির্বাচন কমিশন তাদের ছেড়ে দিল। এটা কীভাবে সম্ভব? স্থানীয় বাসিন্দা রাম মণ্ডলের অভিযোগ, এই এলাকার সরল-সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিজেপি অসৎ পথ বেছে নিয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারকে এভাবে টাকার বিনিময়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতা শহিদুল্লাহ গাজি বলেন, বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, তারা কখনও সাধারণ মানুষকে টাকা দিয়ে কিনতে পারবে না। বিজেপির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অসম থেকে প্রাক্তন বিধায়ক এনে বাংলায় টাকা বিলি করাতে হচ্ছে। যদি কেউ ভেবে থাকে টাকা ছড়িয়ে ভোট জেতা যাবে, তাহলে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। কমিশন কেমন দলদাস হল তা বোঝা যাচ্ছে। অভিযুক্তদের টাকা সহ ধরার পরও ছেড়ে দিল। এটাও সম্ভব? এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা তরুণ মন্ডল বলেন, এখানে একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। ওরা বহুবার আমাদের কাছে অনুরোধ করেছিল কিছু আর্থিক সাহায্যের জন্য। সেই অনুযায়ী খুব সামান্য অর্থ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য সাহায্য করা হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ