Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামের দাপুটে নেতা আলরাজি ও সামসুলকে হাফপ্যান্টে ঘোরাল পুলিশ

নন্দীগ্রামে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মূল চক্রী আলরাজিকে হাফপ্যান্টে ঘোরাল পুলিশ। এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহিলারা। বিস্তারিত পড়ুন।

নন্দীগ্রামের দাপুটে নেতা আলরাজি ও সামসুলকে হাফপ্যান্টে ঘোরাল পুলিশ
  • ১৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একুশে নন্দীগ্রামে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মূল চক্রী তৃণমূল নেতা আব্দুল আলিম আলরাজিকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে গড়চক্রবেড়িয়া, বঙ্কিমমোড় ও মনসাবাজারে ঘোরাল পুলিশ। ওই নেতার উপর জনরোষ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় মিশ্রের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী ছিল। তারপরও আলরাজিকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অত্যাচারিত মহিলারা। ২০২১সালে ২ ও ৩মে গড়চক্রবেড়িয়ায় বিজেপি কর্মীদের দোকানপাট, বাড়িঘর লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। মহিলারাও অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাননি। অনেক বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন। গত ৫এপ্রিল রাজ্যের তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ওই এলাকায় গিয়ে অত্যাচারের ঘটনা শুনে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন অত্যাচারিত প্রত্যেকের মুখে আলরাজির নাম শোনা গিয়েছিল। ওই তৃণমূল নেতার মদতে ভোট পরবর্তী হিংসা ভয়ানক চেহারা নিয়েছিল। শুক্রবার সেই আলরাজিকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে গড়চক্রবেড়িয়া এলাকায় ঘোরাল পুলিশ।

Advertisement

এদিন বিকালে নন্দীগ্রামের আর এক দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সামসুল ইসলামকে দাউদপুর ভাটপুকুর এলাকায় হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরায় পুলিশ। সামসুল জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। প্রকাশ্যে গুন্ডামি, মস্তানি করতেও পিছুপা হতেন না। এধরনের তাঁর অসংখ্য ভিডিও ভাইরাল হয়। তারপরও বাহুবলী নেতার দাপট কমেনি। গত ৫জুন নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। এদিন নিজের এলাকায় তাঁকে ঘোরায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, আলরাজি নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য। একসময় বিরোধী দলনেতা ছিলেন। পরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের সময় তিনি পার্টির নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কোর কমিটির সদস্য ছিলেন। নন্দীগ্রামে ২০২৪সালে বিজেপি কর্মী রথীবালা আড়ি খুন সহ মোট ন’টি মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল আলিম আলরাজি। গত ৮ জুন তিনি নন্দীগ্রাম থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ হেপাজতে থাকা আলরাজিকে এদিন সকাল ১০টায় প্রথমে বঙ্কিম মোড়ে নিয়ে যায় পুলিশ। বঙ্কিম মোড় বাজার এলাকায় একুশের ভোটের পর অনেক দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেইসব লোকের সঙ্গে থানার আইসি কথা বলেন। তারপর আলরাজিকে নিয়ে যাওয়া হয় গড়চক্রবেড়িয়ায়। কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের অধীন এই গ্রামের অনেক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট হয়। অত্যাচারিত সেইসব পরিবারের সদস্যরা এদিন আলরাজিকে দেখে ক্ষোভ উগরে দেন। শুক্রবার গড়চক্রবেড়িয়ার কল্পনা দাস বলেন, আলরাজি একুশের সন্ত্রাসের মূল হোতা। ওর কঠোর সাজা চাই। রাধারানি শীট বলেন, একুশের ভোটে লাগামহীন অত্যাচার করেছিল তৃণমূল। মারধর করে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। ডাক্তার যাতে না আসে সেজন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার পর অবাধে লুটপাট করা হয়। আলরাজি, সইয়ুম কাজির মতো নেতারা সেই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিল। আমরা তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছি। ২০২৪সালে লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে সোনাচূড়া পঞ্চায়েতের অধীন মনসাবাজারে খুন হন বিজেপি কর্মী রথীবালা আড়ি। সেই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আলরাজি।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ