সংবাদদাতা, রামপুরহাট : দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই কড়া নাড়ছে কালীপুজো ও দীপাবলি। আর এই উৎসব ঘিরে বীরভূম জুড়ে এবারও নিষিদ্ধ শব্দবাজির তাণ্ডব নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। পুজোর সময় জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যথেচ্ছ শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও আসন্ন কালীপুজোয় সেই ছবিটা বদলাতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ভিন রাজ্য থেকে শব্দবাজি প্রবেশ রুখতে আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃজেলা সীমানায় কড়া নজরদারি এবং বিশেষ ‘নাকা চেকিং’ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বীরভূম জেলার পশ্চিমে রয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের জামতাড়া, দুমকা ও পাকুড় জেলা এবং অন্য তিন দিকে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা। এই সীমানাগুলি থেকেই মূলত লুকিয়ে-চুরিয়ে বেআইনি শব্দবাজি জেলায় ঢোকে বলে অভিযোগ। নবান্নের কঠোর বার্তার পর বাজারগুলিতে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভূন্দেশ জানান, সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি কার কার কাছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি মজুত রয়েছে, তারও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য বিশেষ টিম করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড সীমানাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ নাকাচেকিং আরও জোরালো করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের স্পষ্ট বার্তা, পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের বাজি বিক্রি বা ফাটানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আগে রামপুরহাট, মল্লারপুর ও মুরারই থানা এলাকার ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন পাথরঘাঁটা, দুলান্দি ও কনকপুরে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় বাজির মজুতকারীরা। বর্তমানে ওই এলাকাগুলিতে এবং মুর্শিদাবাদ সীমানা সংলগ্ন কাশিমনগরে নিয়মিত চেকিংয়ের পাশাপাশি পাথরঘাটা ও দুলান্দিতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তবে পুলিশের এই আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না বীরভূমের একটা বড়ো অংশের মানুষ। রামপুরহাটের ষাটোর্ধ্ব ফণিভূষণ মুখোপাধ্যায় ও অনুপম মণ্ডলদের ক্ষোভ, প্রতিবছরই কালীপুজোর আগে পুলিশ প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে উৎসবের রাতে বিকট শব্দে কান পাতা দায় হয়ে পড়ে। দরজা-জানালা বন্ধ করেও ঘরে টেকা যায় না। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে অবৈধ শব্দবাজির বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। -নিজস্ব চিত্র



