সংবাদদাতা, বর্ধমান: ফেক প্রোফাইল খুলে তাতে মহিলার ব্যক্তিগত তথ্য ও বিকৃত ছবি পোস্ট করায় অভিযুক্ত পুলিসের সাব-ইন্সপেক্টর বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরের নাম শেখ রহমত। বর্তমানে তিনি আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের অধীন রানিগঞ্জ থানায় কর্মরত। তাঁর হয়ে আইনজীবী পার্থ হাটি জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। অন্যদিকে, কেসের তদন্তকারী অফিসার দেওয়ানদিঘির সার্কেল ইন্সপেক্টর রাজকুমার ঘোষ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তদন্তকারী অফিসার আদালতে বলেন, অভিযুক্ত পুলিসের সাব-ইন্সপেক্টর। তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। অভিযুক্ত সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারে। সরকারি আইনজীবীও জামিনের বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল শুনে পদের অপব্যবহার করে তদন্তকে প্রভাবিত না করা এবং সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরার শর্তে ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে দেওয়ানদিঘি থানার তালিতের এক গৃহবধূর সঙ্গে রহমতের ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস খানেক আগে দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হয়। দু’জনের মধ্যে অশান্তি হয়। ওই মহিলা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান। মহিলার অভিযোগ, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় রহমত তাঁকে হুমকি দেন। তাঁর নামে একটি ফেক প্রোফাইল খোলা হয়। সেখানে তাঁর নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি শেয়ার করা হয়। পরে ফেসবুকে আরও একটি প্রোফাইল খোলা হয়। সেখানে তাঁর বিকৃত ছবি পোস্ট করা হয়। এনিয়ে মহিলা গত ৩ আগস্ট থানায় ডায়েরি করেন। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরই মহিলা সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে কেস রুজু করে তদন্তে নামে সাইবার থানা। প্রাথমিকভাবে মহিলার অভিযোগের সারবত্তা মেলে। এরপরই নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে ডেকে পাঠান তদন্তকারী অফিসার। আজ, বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে সাইবার থানায় হাজির হতে বলা হয়। তার আগেই অবশ্য তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।