


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ছোটোখাটো দু’একটি বিপত্তি ছাড়া মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথমদিন কাটল নির্বিঘ্নে। পরীক্ষা উপলক্ষ্যে পুলিশি ব্যবস্থা ছিল চূড়ান্ত। রাস্তাঘাটে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এগিয়ে আসে রাজনৈতিক দল সব বিভিন্ন সংগঠন। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অটো-টোটোর ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের বসার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৯৬ হাজার ৩৪ জন। হুগলিতে পরীক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৬৪৭।
দিনের শুরুতেই বিপত্তি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর আমঝরায়। প্রশ্নপত্র নিয়ে উলটে যায় চারচাকা গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন পুলিশ ও শিক্ষকরা। দুর্ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী সহ কয়েকজন আহত হন। সাগরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে টোটো উলটে আহত হয় বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় বসে। পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ে স্বপ্না চক্রবর্তী নামে এক ছাত্রী। রায়দিঘি হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দেয় সে।
অন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়া ছাত্রকে নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন তারকেশ্বর থানার ওসি। তালপুর স্কুলের ওই ছাত্রের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল রাম নারায়ণপুর হাইস্কুলে। ছাত্রটি পৌঁছে যায় তারকেশ্বর চাঁপাডাঙা হাইস্কুলে। স্কুলের সামনেই ছিলেন তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধু। তিনি নিজের গাড়িতে নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রটিকে পৌঁছে দেন। হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকরা সায়েদা খাতুন নামে এক ছাত্রীকে নিজের কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। সে অন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে এসেছিল। হাওড়ার বাঁকড়ার বাসিন্দা ওই পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছিল ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষা নিকেতন বয়েজ স্কুলে। কিন্তু ভুল করে সে চলে যায় ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে। ব্যাঁটরা বিবিপিসি গার্লস হাইস্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পৃথকভাবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাঁচলায় ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে আসা ছাত্রীকে নিজের বাইকে চাপিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন পাঁচলা থানার সাব ইনস্পেক্টর ভাস্কর মালিক। উলুবেড়িয়ার কৈজুরি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পেন, ফুল, জলের বোতল দিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রী পুলক রায়। আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রায় সব কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
বারাকপুর স্টেশনের কাছ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফ্রি অটো টোটো পাশ দিল আইনটিটিইউসি। যে পাশ দেখালে বিনা পয়সায় পরীক্ষার্থীরা অটো টোটো চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারবে। স্মৃতি সাহানি নামে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড ফেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। টিটাগড় পুলিশ বাড়ি থেকে অ্যাডমিট জোগাড় করে নিয়ে আসে। কাঁচরাপাড়ায় প্রতিটি স্কুলের সামনে অভিভাবকদের বসার জন্য ক্যাম্পে করা হয়। সেখানে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বীজপুরের বিধায়ক সুবোধ অধিকারী।
উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় জলপথে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। জেলা মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনার ডক্টর সুব্রত গুহ বলেন, বসিরহাট মহকুমা আমাদের কাছে একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং, কারণ সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভাবেই জলপথ নির্ভর, সেখানে সঠিক সময় প্রশ্ন পত্র পৌঁছে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার। বসিরহাট মহকুমা জুড়ে বাড়তি পুলিশ দেখা যায়। খেয়াঘাটগুলিতে সিভিল ডিফেন্সের কর্মচারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।