


সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠা তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি দেশি ৭ এমএম পিস্তল এবং ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধৃত ওই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের নাম রঞ্জিত দাস। তিনি দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের কিশামত দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। এদিন রাতে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেলপুর ঘাটের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বুধবার তাকে দিনহাটা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ধৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই এলাকার মানুষকে ধমকানো, মারধরের পাশাপাশি হুমকি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শাসক দলের পঞ্চায়েত হওয়ায় যখন তখন গ্রামের মানুষদের উপর দাদাগিরি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ বিজেপির।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের কিশামত দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য রঞ্জিত দাস নেলপুর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ এলাকায় তাকে আটক করে তল্লাশি চালায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি দেশি ৭ এমএম পিস্তল এবং ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপরেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কী উদ্দেশ্যে ওই পঞ্চায়েত সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। তার অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজকর্ম করার অভিসন্ধি ছিল কি না সেসব খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
দিনহাটা বিধানসভার বিজেপির ৩ নং মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত সরকার বলেন, কিশামত দশগ্রাম অঞ্চলের পাকারমাথা বটতলা এলাকার ত্রাস ছিল ওই তৃণমূলের পঞ্চায়েত রঞ্জিত দাস। এলাকার মানুষকে যখন তখন মারধর করা থেকে হুমকি কোনো কিছুই বাদ নেই। আমাকে তো খুনের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল। ভোটের দিনেও বুথে গিয়ে অনেককেই হুমকি দিয়েছিল।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, এমন কোনো ঘটনার কথা শুনিনি।
দিনহাটার এসডিপিও প্রশান্ত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে তল্লাশি চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে।