নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভিড়ের মাঝে ত্রাতা হয়ে উঠবে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের বিশেষ অ্যাপ। এতে ক্লিক করলেই সরাসরি ফোন যাবে পুলিশের কন্ট্রোল রুমে। অবস্থান জেনে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, ‘রোমিও’দের কাছে এই অ্যাপ ভিলেন হয়ে দাঁড়াবে। অপরাধ করলে তাদের ঠাঁই হবে শ্রীঘরে। বোধনের আগেই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করবেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, অ্যাপ থেকে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের অবস্থানও জানতে পারবেন। কোন পথ দিয়ে সহজে মণ্ডপে পৌঁছনো যাবে, সেটাও জানা সহজ হবে। প্লে-স্টোর থেকেই এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরে এবারও থিমের ছড়াছড়ি। প্রায় ২০টি বড় পুজো কমিটি এবার অভিনব থিম করে চমক দিতে চলেছে। এছাড়া শহরে কম বাজেটের আরও বহু থিম পুজো রয়েছে। চতুর্থীর সন্ধ্যাতেই অধিকাংশ বড় পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে। সেদিন থেকেই রাস্তায় দর্শনার্থীদের ঢল নামবে ধরে নিয়েই পুলিশ প্রস্তুতি শুরু করেছে। বাইরে থেকে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করবে। পুলিশের মহিলা বাহিনী বিকেল থেকেই শহরে ঘুরতে শুরু করবে। তারা স্কুটি এবং সাইকেল চালিয়ে অলিতে গলিতে পৌঁছে যাবে। ভিড়ের মাঝেও সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। বিশেষ করে বড় পুজো মণ্ডপগুলির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। বিগবাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে মণ্ডপের সামনে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবেশ এবং বাইরে আসার পথ যাতে প্রশস্ত থাকে, সেটা দেখার জন্যও বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার কয়েক দিন ধরেই দফায় দফায় পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান ছাড়াও কাটোয়া, মেমারি, গুসকরা শহরেও বেশকিছু বড় পুজো হয়। এই শহরগুলিতেও পুজোর দিনগুলিতে পুলিশ কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া বড়শুলে তিনটি পুজো কমিটি প্রতিবারই চমক দেয়। এবারও সেখানে থিমের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। বড়শুলেও উপচে পড়া ভিড় হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওই অ্যাপ ডাউনলোড করা থাকলে যেকোনও জায়গা থেকেই দর্শনার্থীরা অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এক আধিকারিক বলেন, ওই অ্যাপে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক অপশন খুলে যাবে। সেখানে যেকোনও ধরনের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। প্রতিটি শহরে পুলিশর একাধিক টহলদারি ভ্যান থাকবে। অ্যাপ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কন্ট্রোলরুমের পুলিশ কর্মীরা তৎক্ষণাৎ টহলদারি ভ্যানে জানাবেন। তাদের লোকেশনও শেয়ার করে দেওয়া হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। অ্যাপের নাম দু’-তিনদিনের মধ্যেই সামনে আনা হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশর পেজেও অ্যাপ সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করা হবে।