নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দ্বাপর যুগের শেষদিকে রয়েছে, পঞ্চপাণ্ডব শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানতে চেয়েছিল, কলি যুগ কেমন হবে? শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, তোমরা পাঁচজন একটি জঙ্গলে পাঁচ রাস্তা দিয়ে ঘুরে এস। পাণ্ডবরা ঘুরে এসে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, এ জগতে কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। অতিরিক্ত মাতৃস্নেহ সন্তানদের বিপথে পরিচালিত করবে, ধর্মগুরুদের দু’রকম রূপ দেখা যাবে। মানুষ ধর্ম অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে। পাপে পরিপূর্ণ হবে জগত। এখন বর্তমান অবস্থার সঙ্গে এই পূর্বাভাসের অনেকটাই মিল পাচ্ছে অশোকনগরের স্কাইলার্ক ক্লাব। এই পুজো কমিটি এবার তাদের পুজোর থিম করেছে, ‘কলিযুগ সোনায় সোহাগা’। সোনায় সোহাগার ব্যাখ্যা হিসেবে উদ্যোক্তারা বলছেন, ‘মণ্ডপের চারদিকে মহাভারতের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার প্যান্ডেল তৈরি করেছেন সোনালি রঙ দিয়ে। মণ্ডপে মহাভারত দেখা যাবে। সবমিলিয়ে হয়েছে থিম। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বলেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী আজও বাস্তব। সেই ভাবনা থেকেই এই থিম। মহাভারতের বিভিন্ন অংশ হয় তো অনেকেরই অজানা। কলিযুগ কেমন হবে তা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের অহংকার ও বৈভব কতটা ক্ষতি করতে পারে তাও তুলে ধরেছি। এটা মহাভারতের ধারণা।’ কল্যাণগড় নেতাজি বাগ ক্লাব তাদের পুজোর থিম ভাবনায় তুলে এনেছে, ২৩টি জেলার ঐতিহ্যশালী বিষয়গুলিকে। কোথাও টেরাকোটা কোথাও ছৌনাচ, আবার কোথাও বিভিন্ন লোকশিল্প, হস্তশিল্পকে তুলে ধরেছে প্যান্ডেলে। এছাড়া সেই জেলার মনীষীদের জীবন কাহিনি, জনসংখ্যা, সাক্ষরতার হিসেব তুলে ধরা হয়েছে। জগদ্ধাত্রী মূর্তি তৈরি হয়েছে ৫০ কেজিরও বেশি ওজনের কাচ ব্যবহার করে। হাবড়ার শিব মন্দির মিলনী ক্লাবের থিম পুরনো কলকাতা। নগরায়নের ফলে পুরনো দিনের কলকাতা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু ঐতিহ্য এখনও আছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের কাছে তা অজানা। তাই ট্রাম, রাজবাড়ি থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী কিছু জিনিস তুলে ধরা হয়েছে প্যান্ডেলে।



