নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ পানীয় জল ‘চুরি’ করে কোথাও পুকুর, কোথাও মাছ চাষের চৌবাচ্চা ভরানো চলছে। এমনকী, নার্সারিতে চারাগাছের জন্য সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে ওই জল। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অভিযানে এমনই অবাক করার মতো কাণ্ডকারখানা সামনে আসছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। আধিকারিকরা দেখছেন, সরকারি পাইপলাইন থেকে জল টেনেই এসব কাজে লাগানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এরকম ঘটনা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আধিকারিকরা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছেন। বজবজ, বিষ্ণুপুরজুড়ে এই ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে শুধু ওই অবৈধ সংযোগ কেটে দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না তাঁরা, প্রায় ৬০০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। একে একে অভিযুক্তদের কাছে পুলিসের নোটিস যাচ্ছে। বেগতিক বুঝে অনেকে নিজে থেকেই অবৈধ সংযোগ কেটে দিচ্ছে।
Advertisement
জেলাজুড়ে অভিযানে অন্তত ১৫টি জায়গায় মাছ চাষ এবং পুকুর ভর্তি করতে পানীয় জলের ব্যবহার ধরা পড়েছে। কেন তারা জল ‘চুরি’ করছিলেন, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি অভিযুক্তরা। এই অভিযানে সরকারি প্রতিনিধিরা আরও লক্ষ্য করেন, বেআইনি এসব পাইপলাইন দিয়ে সারাদিন জল পড়েই যাচ্ছে। অপচয় হচ্ছে দেদার। সূত্রের খবর, আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, বারুইপুরে পেয়ারা চাষের জন্যও এই পাইপলাইনের জল কাজে লাগানো হচ্ছে। সেখানেও শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে বলে খবর। এভাবে পাইপলাইন থেকে অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত জল টেনে নেওয়ার জন্য অনেক বাড়িতে ঠিকমতো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল পৌঁছচ্ছিল না। তবে যেদিন থেকে এসব বেআইনি জলের লাইন কাটা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকে একটু একটু করে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বেআইনিভাবে জল টেনে নেওয়া দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে অতীতে একাধিকবার অভিযানের চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের একাংশের বাধায় প্রশাসনকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এনিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর পুলিস ও প্রশাসন যৌথভাবে পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। এখন সেভাবে বাধা দিতেও কেউ সাহস পাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।



