জাটিঙ্গা। অসমের ডিমা হাসাও জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। কিন্তু এরই আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এক অজানা রহস্য বুকে আঁকড়ে রেখেছে পাহাড়ি এই গ্রাম। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এখানে দলে দলে পাখির মৃত্যু হয়। সেই কারণে এই গ্রামকে অনেকেই পাখিদের ‘মৃত্যু উপত্যকা’ বা ‘ভ্যালি অব ডেথ’ বলে ডাকেন। কেউ কেউ মনে করেন, এখানে পাখিরা আত্মঘাতী হয়। কিন্তু সত্যি কি তাই? সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষার শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাতের দিকে এই ঘটনা ঘটে। সকালে উঠে গ্রামবাসীরা দেখতে পান ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা মৃত পাখিদের। তবে গোটা গ্রামেই যে এমন ঘটে তা কিন্তু নয়। একটা নির্দিষ্ট অংশেই মৃত পাখিদের দেখতে পাওয়া যায়। অনেকেই আবার আধমরা পাখিদের ধরতে আসে। পাখি পুড়িয়ে চলে দেদার খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এমন কী হয়, তা বোঝা মুশকিল। পক্ষীবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানুষের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু পাখিদের মস্তিষ্ক এতটাও উন্নত নয়, যে তারা আত্মহত্যা করতে পারে। আসলে শীতকালে পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশা আর ধোঁয়াশা থাকে। পাখির দল একটা নির্দিষ্ট গতিতে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে উড়ে চলে। আর অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে গাছে, বাঁশে কিংবা অন্যত্র ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারায়। ১৯৮৮ সালে অসমে বেশ কয়েকবার বন্যা হয়েছিল। তখনও অসংখ্য পাখির মৃত্যুর খবর মিলেছিল। তবে স্থানীয় অনেকেই বিশ্বাস করেন, এর পিছনে নাকি প্রেতাত্মাদের হাত রয়েছে। শয়তান বলি নেয় পাখিদের।এধরনের কুসংস্কার অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ব্যাখ্যা, জাটিঙ্গার অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে এখানে চৌম্বকীয় পরিবেশে তৈরি হয়। প্রভাব পড়ে পাখিদের স্নায়ুতন্ত্রের উপর। এর জেরে পাখিরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।



