Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজালি থেকে লোকাল ট্রেনের আশায় জল ঢালল রেল, আগেই বাতিল প্রকল্প

পুজালি থেকে লোকাল ট্রেনের আশায় জল ঢালল রেল, আগেই বাতিল প্রকল্প
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজ ও পুজালির মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর কোনও সম্ভাবনাই নেই। সম্প্রতি এক আরটিআইয়ের উত্তরে রেল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওই প্রকল্প আগেই বাতিল করা হয়েছে। ২০১৯ সালের বাজেট প্রস্তাবে তার উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই রেলপথ নিয়ে অনেক আশায় ছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, রেল হয়তো ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে প্রকল্পকে ফের জিইয়ে তুলবে। মাত্র ১০ কিমি রেললাইন পাতলেই হবে। সেই আশায় নিজেই জল ঢেলে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কেউ কেউ বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়ম ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বড় শিল্প থাকায় বজবজ থেকে মালগাড়ির লাইন এসেছে পুজালি পর্যন্ত। প্রয়োজনে ওই পথেই চালানো যেতে পারে লোকাল। এই যুক্তিও খারিজ করে রেল জানিয়েছে, বজবজ থেকে পুজালি পর্যন্ত মালগাড়ির লাইনটি মূলত সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ফলে ওই লাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর অবকাশ নেই।
Advertisement
এই রুটে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি দীর্ঘদিনের। নিত্যযাত্রীরা এ নিয়ে বহুবার দরবার করেছে রেলমন্ত্রক থেকে রেলমন্ত্রী পর্যন্ত। সেই সময় রেলমন্ত্রী ছিলেন নীতীশ কুমার। তৎকালীন সরকার সেই দাবি মেনে এই রুটে সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরপর সেই ফাইল চলে যায় ঠান্ডাঘরে। শেষমেশ তা বাতিলই হয়ে যায়। 
প্রতিদিন পুজালি থেকে হাজার হাজার মানুষ বজবজে এসে ট্রেন ধরে কলকাতায় যান চাকরি বা ব্যবসা করতে। তাঁদের হয় অটো, না হয় ট্রেকারে করে যাতায়াত করতে হয়। ফলে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। শিয়ালদহ-বজবজ লোকালকে পুজালি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে পারলে ওই পুরসভা ও সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ সহজেই কলকাতায় যাতায়াত করতে পারতেন। এই দাবি জানিয়েছিলেন নিত্যযাত্রীরা। ওই প্রকল্প আদৌ দিনের আলো দেখবে কি না, তা জানতে গত অক্টোবরে এই এলাকারই এক বাসিন্দা আরটিআই করে রেলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে গত ৫ নভেম্বর পূর্ব রেলের ডেপুটি সিই (কন) পিআরডি অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টের তরফে জে সি দাস জানিয়েছেন, রেল বোর্ড ওই কাজ বাতিল করে দিয়েছে। ২০১৯ সালের বাজেট প্রস্তাবে তা স্পষ্টভাষায় লেখা রয়েছে। স্বভাবতই হতাশ এলাকার মানুষ।
কানাই সাঁতরা, বলাই দাস, মন্টু ঘোষদের মতো প্রবীণদের কথায়, পুজালি পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চললে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। রেলমন্ত্রক এই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দাবিকে গুরুত্বই দিল না। এ নিয়ে বজবজের বিধায়ক অশোক দেব, পুজালি ও বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান এবং সর্বোপরি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রককে একাধিকবার চিঠি দিয়েছিলেন। কানাইবাবু বলেন, বজবজ থেকে পুজালি পর্যন্ত মালগাড়ির জন্য একটি লাইন রয়েছে। ওই লাইন দিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়ম ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জিনিসপত্র আসে মালগাড়িতে। নতুন রেললাইন পাতা না হলেও মালগাড়ির লাইনকে সংস্কার করে যাত্রী পরিষেবা দেওয়া যেত। তাতে খরচও বেশি হতো না।
পুজালি পুরসভার প্রশাসক তাপস বিশ্বাস বলেন, অনেক চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু এব্যাপারে রেলের কোনও আগ্রহ নেই। এর বাইরে আরেকটি বিকল্প লাইন বজবজ থেকে পুজালি হয়ে অছিপুর পর্যন্ত করার ভাবনা ছিল রেলের। শুনলাম, সেটিও বাতিল হয়ে গিয়েছে। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, রেলের কাছে এ নিয়ে বহুবার দরবার করা হয়েছে। লাভের লাভ কিছু হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ