সংবাদদাতা, বজবজ: পাইপলাইন থেকে জল চুরি নিয়ে প্রশাসন ধরপাকড় বাড়াতেই সুফল পেতে শুরু করেছে বহু সাধারণ মানুষ। কয়েকবছর আগে পাইপলাইনের সংযোগ এলেও যাঁরা এতদিন পানীয় জল পাচ্ছিলেন না, এতদিনে তাঁরা অল্প হলেও তা পাচ্ছেন। যেমন, বছর তিনেক আগে বুঁইতা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাবেরা বিবির বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ ও ট্যাপ বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিল জনস্বাস্থ্য দপ্তর। শুরুর দিকে দিন ১৫ জল পেয়েছেন। তারপর থেকে আর জল আসেনি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ফের সরকারি ট্যাপ থেকে জল পড়ছে। সাবেরা বিবি প্রথমে রীতিমতো হকচকিয়ে যান জল পড়তে দেখে। শুক্রবার তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। সাবেরা বিবি তাঁদের এই প্রশ্ন করে জেনেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামেরই একাধিক বাড়িতে অবৈধভাবে পাইপলাইন কেটে বা ফুটো করে জল টেনে নেওয়া হচ্ছিল পাম্পের সাহায্যে। সেই জল দিয়ে কেউ পুকুর ভরিয়েছে, কেউ সেচের কাজে লাগিয়েছে। এই কারণেই এতদিন জল পাচ্ছিলেন না সাবেরা বিবির মতো অনেকে।
Advertisement
বৈধভাবে সংযোগ পেয়েছেন, বজবজ-১ ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাড়িতে একেবারে জল যাচ্ছিল না। গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ফলে জল পাচ্ছেন তাঁরা। জলের পরিমাণ ধীরে ধীরে আরও বাড়বে বলেও আশ্বস্ত করেছেন জনস্বাস্থ্য কর্তারা। কারণ, অবৈধ জলের সংযোগ কাটার কাজ এখনও চলবে। বুঁইতা গ্রামের সাবেরা বিবির পাশাপাশি একই কথা বলেছেন নয়াচকের রেখা বাগ, দুর্বা বাগ, মীনা মণ্ডলরা। রাজীবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বপন বোস বলেন, ‘তিন বছর ধরে জল আসছিল না। পাঁচদিন ধরে দেখছি, ট্যাপ দিয়ে জল পড়ছে।’ গত বৃহস্পতিবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বজবজ-১ ব্লকের বিডিও অফিসে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেখানে জনস্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ সংযোগ কাটার ফলে আপাতত সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাড়িতে সরাসরি জল যাচেছ। এছাড়া, যে দেড় হাজারের বেশি বাড়িতে সরু সুতোর মতো জল পড়ছিল, সেখানে জলের চাপ বেড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বাস্তুকাররা। সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই জল শুধু পান ও রান্নার জন্য ব্যবহার করবেন।



