Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হারিয়ে যাওয়া রসুন ও হলুদ চাষ ফের শুরু করতে পাইলট প্রকল্প

বাজারে রসুনের চড়া দাম। হুগলি জেলাতে রসুনের চাষও হয় না। এই জেলার মানুষের কাছে কম দামে রসুন পৌঁছে দিতে তাই বিশেষ পাইলট প্রকল্প নিল হুগলি জেলার কৃষিদপ্তর।

হারিয়ে যাওয়া রসুন ও হলুদ চাষ ফের শুরু করতে পাইলট প্রকল্প
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাজারে রসুনের চড়া দাম। হুগলি জেলাতে রসুনের চাষও হয় না। এই জেলার মানুষের কাছে কম দামে রসুন পৌঁছে দিতে তাই বিশেষ পাইলট প্রকল্প নিল হুগলি জেলার কৃষিদপ্তর। এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে আর একটি মশলা। সেটি হল, হলুদ। কারণ হুগলিতে হলুদের উৎপাদন কার্যত নেই। 

Advertisement

যদিও অতীতে হুগলিতে হলুদ চাষ হতো। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন বাছাই কৃষককে নিয়ে দ্রুত ওই পাইলট প্রকল্প কার্যকরী করার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে এই প্রকল্পের লাভজনক দিক নিয়ে প্রচারও চালানো হবে। এর ফলে কৃষকরা যেমন বহুমূল্য ফসল চাষের সুবিধা পাবেন তেমনই নাগরিকরা কম দামে জেলাতে উৎপাদিত পণ্য পাবেন। 
হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ‘হুগলিতে বিশেষ প্রজাতির পেঁয়াজ এখনও চাষ হয়। অতীতে ব্যাপকভাবে রসুন চাষও হতো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে চাষ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাজারে এখন রসুনের চড়া দাম। এই অবস্থায় পুরনো ফসলকে ফিরিয়ে আনতে পাইলট প্রকল্প নিয়েছি। রসুনের সঙ্গে হলুদও চাষ করা হবে। পাইলট প্রকল্প নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে। দ্রুত তা অনুমোদন হয়ে যাবে।’ মনোজ চক্রবর্তী নামে হুগলির এক কৃষক বলেন, ‘বহু বছর হুগলিতে রসুন চাষ হয়নি। যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হুগলি থেকে পাট চাষের পরিমাণ কমে বিকল্প চাষ জনপ্রিয় হয়েছে। সেই পথেই সরকারি স্তরে উদ্যোগ নিয়ে রসুন চাষ ফেরানো হলে তা কৃষক ও বাসিন্দা সকলের জন্যই ভালো হবে। ফসলের উচ্চ উৎপাদন এবং চড়া বাজার থাকলে কৃষক উৎসাহ পাবে। পাইলট প্রকল্পের সাফল্যের দিকে আমরা নজর রাখব।’
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই পদ্ধতিতে চালানো হবে পাইলট প্রকল্প। একটি হল হাতেকলমে চাষ। অন্যটি হল প্রচার করে কৃষকদের মধ্যে চাষের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। হাতেকলমে চাষের জন্য হুগলির ১৮টি ব্লকেই চাষ করানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ব্লক থেকে একজন করে উদ্যমী ও সফল কৃষককে বাছাই করা হয়েছে। তাঁদের তিন বিঘে করে জমি নিয়ে রসুন ও হলুদ চাষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি স্তর থেকে কৃষিপ্রযুক্তি সহ অন্যান্য সুযোগ দিয়ে ওই চাষ ও ফসল বাজারজাত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। জেলা পরিষদের কৃষিবিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘রাজ্য কৃষিদপ্তরের প্রাথমিক অনুমোদন পর্ব সারা হয়েছে। আমরা কাজ গুছিয়ে রাখছি। যাতে সবুজ সঙ্কেত মিল঩লেই কাজে নামতে পারি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ