২০১৪ সাল। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের উন্মাদনায় আচ্ছন্ন আট থেকে আশি। ব্যতিক্রম ছিলেন না বাপি লাহিড়িও। সেই সময় জনপ্রিয় এই সুরকার ও শিল্পীর লিখেছিলেন ‘লাভ ফুটবল’ গানটি। বাপির কথায়, ‘আমি ফুটবলের অনুরাগী। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই গানটি লিখেছি, গেয়েছি।’ সেবারই প্রথম নয়। বাঙালির ‘সব খেলার সেরা’ খেলা নিয়ে আগেও গান বেঁধেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে লিখেছিলেন ‘ফুটবল ফিভার বোলে ওলে ওলে’ গান। বাপি লাহিড়ি আগাগোড়াই ছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক। ডিয়েগো মারাদোনার ফ্যান। প্রখ্যাত এই সুরকারের মারাদোনা-প্রেমে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি তৎকালীন আমেরিকায় নিযুক্ত নীল-সাদা জার্সির দেশের দূত ফেরনান্দো ডি মার্টিনি। তিনি আবার ছিলেন বাপি লাহিড়ির গুণমুগ্ধ। মার্টিনি ভারতীয় সুরকারের কাছে মারাদোনাকে নিয়ে গানের আবদার জানিয়েছিলেন। তাঁকে নিরাশ করেননি শিল্পী। ২০১৬ সালে ফুটবলের রাজপুত্রকে নিয়ে গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। পরে দুবাইতে স্বপ্নের ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করে সেই গানের রেকর্ড উপহার দিয়েছিলেন বাপি লাহিড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাতি স্বস্তিক। ওইদিন বাপি বলেছিলেন, ‘আমি কলকাতা থেকে এসেছি। ওই শহরের মানুষের খাওয়া, ঘুমানো, এমনকী শ্বাস-প্রশ্বাসেও জড়িয়ে ফুটবল। সর্বকালের সেরা ফুটবলার মারাদোনাকে একটি গান উপহার দেওয়া ছিল আমার বহুদিনের ইচ্ছা। আজ সেই স্বপ্নপূরণের দিন।’ আর এই উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন মারাদোনা। ডিস্কো ডান্সার সিনেমার ‘জিমি জিমি’ গান তিনি শুনেছেন বলে বাপ্পিকে জানিয়েছিলেন ওই কিংবদন্তী ফুটবলার। কর্মসূত্রে বেশিরভাগ মুম্বইতেই থাকতেন বাপ্পি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই কলকাতার ফুটবল, বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের খবর থাকতো তাঁর নখদর্পণে। তিনি ছিলেন লাল-হলুদ ক্লাবের আজীবন সদস্য। কার্ডের নম্বর ৬১৬। বেশ কয়েকবার ক্লাবেও এসেছিলেন। ২০১৩ সালে ক্লাবের জন্মদিনে সল্টলেক স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রয়াত এই শিল্পী।



