নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মেঘালয়ে পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি)। অর্থাৎ, শিলং, চেরাপুঞ্জি বা মৌসিনরাম বেড়াতে গেলে এবার করাতে হবে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন। জানতে চাওয়া হবে ভ্রমণের উদ্দেশ্য। নথিপত্র যাচাইয়ের পর সরকারি অনুমতি মিললে তবেই পা রাখা যাবে মেঘের দেশে। সেরাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী টিমোথি ডি শিরা জানিয়েছেন, শীঘ্রই কার্যকর হবে এই ব্যবস্থা। মূলত মেঘালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। মেঘালয়ের পর্যটন দপ্তর সূত্রে খবর, পর্যটকদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথম ক্যাম্পটি করা হচ্ছে রি-ভোই জেলার উমলিংয়ে। এরপর গারো পাহাড় সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি এ ধরনের ক্যাম্প খোলা হবে। পর্যটকদের সেখানে এসে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পর্যটন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কনভেনর রাজ বসু বলেন, ‘মেঘালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে যদি আইএলপি চালুর কথা ভাবা হয়, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু এর জন্য যেন পর্যটকদের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটা দেখতে হবে। সরলীকরণ করতে হবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া।’ হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘যতক্ষণ না নয়া ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, ততক্ষণ তো সেটা ভালো না খারাপ বলা সম্ভব নয়। তবে পর্যটকরা এতদিন একরকমভাবে মেঘালয় ঘুরতে যেতেন। আইএলপি চালু হলে তাঁদের রাস্তায় বাড়তি সময় নষ্ট হবে।’ রেজিস্ট্রেশন চালুর পাশাপাশি পর্যটকদের উপর ডিজিটাল নজরদারিও বাড়াচ্ছে মেঘালয় সরকার। রাজ্যের সমস্ত হোটেল, হোমস্টে, গেস্ট হাউসকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্যটক সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে হবে। অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরামে আগেই আইএলপি চালু হয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেঘালয়। শিলংয়ের হোটেল ব্যবসায়ী অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘এখন আমাদের প্রতিদিনই পর্যটন দপ্তরের পোর্টালে পর্যটকদের সম্পর্কিত তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হয়। তবে আইএলপি চালু নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে।’



