


কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: সিপিএমের সুভাষ চক্রবর্তীর পাশে থাকা শারদ্বত মুখোপাধ্যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির প্রার্থী! এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না সল্টলেক। সুভাষের উদ্যোগে তৈরি হওয়া সুবোধ মিত্র ক্যান্সার হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাকেচক্রে এ তিনি বিধাননগর বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী। তাঁকে হাসপাতালে সুভাষের পাশে একসঙ্গে দেখে অনেকেই ভাবতেন শারদ্বত বোধহয় সিপিএমেরই লোক। কাজেই উনি বিজেপি হয়ে দাঁড়ানোর পর স্বাভাবিকভাবে সল্টলেকের সাধারণ মানুষ হতবাক। রাজনৈতিক টিপ্পনী কেটে অনেকেই বলছেন, রাম-বাম মিশে যাওয়া বোধহয় একেই বলে।
সুভাষ চক্রবর্তী বহু সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সিপিএম দাবি করে। সুভাষ মারা গিয়েছেন প্রায় ১৭ বছর হয়ে গেল। তিনি থাকতেন সল্টলেকে। সল্টলেক বা বিধানননগর তখন বেলগাছিয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই আসন থেকে পরপর সাতবার জিতেছিলেন সুভাষ। সবমিলিয়ে বিধাননগরের মানুষের তাঁর প্রতি বাড়তি আবেগ কাজ করত এবং এখনও করে। সুবোধ মিত্র ক্যান্সার হাসপাতাল শুরু হয়েছিল সুভাষের উদ্যোগে। কম পয়সায় চিকিৎসার কারণে সেটি হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেই সূত্রে দু’জনের পরিচিতি। এ হেন একজন মানুষ বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন! গুঞ্জন শুরু হয়েছে সল্টলেকবাসীদের মধ্যেও।
বিজেপির কিছু কট্টর সমর্থক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দলের প্রার্থী হিসাবে মেনে নিতে অস্বীকার করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘তৃণমূল শুধু নয়, শারদ্বতকে লড়তে হচ্ছে সুভাষ চক্রবর্তীর ছায়ার সঙ্গেও। সল্টলেকের উপর সে ছায়া বেশ দীর্ঘ।’ এবি ব্লকের বাসিন্দা বিজেপির দীর্ঘদিনের এক সমর্থক বললেন, ‘সল্টলেকের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারেনি দল। সিপিএমের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন কাউকে মেনে নেবেন না সল্টলেকের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিশেষ করে অবাঙালি ভোটাররা।’ বিজেপির সক্রিয় সদস্যদের একাংশের বক্তব্য, ‘দলের অনুশাসন মেনে কাজ করতে হচ্ছে বটে, তবে সুভাষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন কাউকে সবাই মেনে নিচ্ছে না। প্রার্থীকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে। ইভিএমে তার প্রভাব পড়ারও সম্ভাবনা। বিষয়টি আমাদের পক্ষে ভালো হল না।’
সল্টলেকে সিপিএমের পুরবোর্ড থাকার সময় চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পদে ছিলেন নন্দগোপাল ভট্টাচার্য। সিপিএমের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘সুভাষবাবু বহু জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনও ব্যক্তি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রার্থী হয়েছেন! হতেই পারেন, কিন্তু তাতে সুভাষবাবুর কোনও অমর্যাদা হবে না।’ শারদ্বতবাবু বলেন, ‘সুভাষের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। চিকিৎসার কারণে যুক্ত ছিলাম সুবোধ মিত্র হাসপাতালে।’ সল্টলেকের তৃণমূলের এক নেতা বলেছেন, ‘যাহা রাম তাহাই বাম। এটাই প্রমাণিত সত্য।’
কথার পিঠে কথা হতেই থাকবে। তবে ভোটের অঙ্ক এর বাইরেও অনেক কথা বলে। সে কথার ফল ফলে ইভিএমে। ২৯ তারিখ সল্টলেকে ভোট। বিধাননগর বিধানসভা সেদিন সুভাষের মতকে প্রাধান্য দিয়ে একজন হিন্দুত্ববাদীকে প্রত্যাখ্যান করেন কি না তা দেখার, তেমনই শারদ্বতবাবুকে নিয়ে কী বলতে চলেছেন বিধাননগরের মানুষ, তার দিকেও চোখ থাকবে গোটা সল্টলেকের।