Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬

‘যাত্রা’য় যোগই নেই আমজনতার, পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে চিন্তায় বিজেপি শিবির!

২১’এর স্বপ্নভঙ্গের পর এবার নতুন করে বাংলা দখলের ‘খোয়াব’ দেখছে বিজেপি। ‘পরিবর্তনের সংকল্প’ নিয়েছে পদ্মপার্টি।

‘যাত্রা’য় যোগই নেই আমজনতার, পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে চিন্তায় বিজেপি শিবির!
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ২১’এর স্বপ্নভঙ্গের পর এবার নতুন করে বাংলা দখলের ‘খোয়াব’ দেখছে বিজেপি। ‘পরিবর্তনের সংকল্প’ নিয়েছে পদ্মপার্টি। শুধু সংকল্প নেওয়াই নয়, ভিনরাজ্য থেকে মন্ত্রী-সান্ত্রী এনে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছে তারা। ভোট ঘোষণার প্রাকপর্বে বিজেপি রাজ্যজুড়ে শুরু করেছে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’। গত ১ মার্চ ‘রথযাত্রা’র মধ্যে দিয়ে যার সূচনা হয়েছিল। কিন্তু গোটা দেশের বড় নেতা-নেত্রীদের এনে পরিবর্তনের পক্ষে ঝড় তোলার মরিয়া চেষ্টার এই যাত্রায় মানুষের সাড়া কই? ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুণ্ডা, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের মতো তাবড় নেতারা। বঙ্গ বিজেপি’র নেতারা তো ছিলেনই। বিস্তর খরচ, আড়ম্বর করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থক জুটিয়েও বহিরাগত নেতাদের সভা-সমাবেশে যে ‘ঝড়’ তোলা যাচ্ছে না, গত দু’দিন ধরে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পদ্মপার্টি। তার উপরে ‘বিকৃত’ বাংলা উচ্চারণ, বাঙালি মননে চিরস্থায়ী জায়গা করে থাকা মনীষীদের নাম ভুলভাবে পরিবেশন করার মতো বিড়ম্বনা তো রয়েছেই। এছাড়াও পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা পর্বে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলও প্রকাশ্যে আসছে। পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার ‘সেমিফাইনাল পর্বে’ সাধারণ মানুষের তরফে তেমন সাড়া না মেলায়, আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে দলের পোস্টার বয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় লোক জোগাড় করা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বঙ্গ ইউনিটের নেতারা। তাই প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং বিহারের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ব্রিগেডের সভার জন্য আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের উপস্থিতিতে ‘ভূমি পূজন’ করবে বিজেপি।   

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের বুধা মাঠে বিজেপির পরিবর্তন সভার মূল বক্তা ছিলেন অর্জুন মুণ্ডা। নাম মাত্র কর্মী-সমর্থকের সামনে বক্তব্য রাখতে হয় ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। যদিও পরিবর্তন যাত্রার রথে ওঠা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিবাদ এখানে প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপির স্থানীয় সূত্রের কথায়, রাত হয়েছিল বলে লোকজন কম এসেছেন। তবে নেতার সঙ্গে রথে ওঠার প্রতিযোগিতা করে বিবাদে লিপ্ত হওয়াটা কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার বীরভূমের তারাপীঠ, ঝাড়গ্রামের লালগড় এবং উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। মানুষের উপস্থিতি যে আশানুরূপ ছিল না, তা মানছেন পদ্মপার্টির নেতারাই। হিঙ্গলগঞ্জের সভার মূল বক্তা ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। ভাইরাল হয়েছে তাঁর বক্তৃতা। যেখানে দেখা ও শোনা যাচ্ছে, সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকে তিনি ‘বঙ্কিম চন্ট’ আবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে ‘রামচন্দ্র পরমহংস’ বলে উল্লেখ করছেন। 
পরিবর্তন সভায় অংশ নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে শুক্রবার এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। প্রচুর চেয়ার পেতে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য অপেক্ষা করা হলেও, গিরিরাজ যখন বক্তৃতা দিচ্ছেন, সভাস্থল কার্যত ফাঁকা, সে ছবিও সামনে এসেছে। একই চেহারা ছিল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের সভায়। তবে বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তুফানগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে মঞ্চ খুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হুমকি—‘মুখ্যমন্ত্রীকে মা মনে করে দায়িত্ব পালন করলে, সময় এলে আমরাই পিষে দেব!’

সম্পর্কিত সংবাদ