


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খান খুনের তদন্তে আড়াইশোর বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজই ধরিয়ে দিল পলাতক হারুন ও তার সঙ্গী রাফাকাত ওরফে রোহিতকে। হাওড়া থেকে কলকাতা, এমনকি, ভিন রাজ্য থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছে এই ফুটেজ। হারুন ও রোহিতের অবস্থান জানতে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল তদন্তে গঠিত বিশেষ টিমের কাছে। সেই সঙ্গে সাহায্য নেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিরও।
২৫ ফেব্রুয়ারি শফিককে খুনের পর পিলখানা ছাড়ে হারুন ও রোহিত। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকেই বন্ধ তাদের মোবাইল। টাওয়ার লোকেশন দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ভোরে তারা ছিল জোড়াসাঁকো এলাকায়। কিন্তু কোন রুটে গিয়েছে, তা জানতে পিলখানা থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত বিভিন্ন দোকান ও ট্রাফিক সিগন্যালে যে ক্যামেরা রয়েছে, সেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকেই ক্যাবে ওঠার বিষয়টি জানা যায়। জানা যায়, ব্র্যাবোর্ন রোড হয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ধরে কলাবাগানে এসে থেমেছে ক্যাবটি। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বর্তমানে হেপাজতে থাকা মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে ঢুকছে তারা।
পরে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ লাগোয়া সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, তারা মেটিয়াবুরুজগামী মিনিবাসে উঠছে। মেটিয়াবুরুজ মিনিবাস স্ট্যান্ড এলাকার ফুটেজ জানান দেয়, তারা বিচালিঘাটে রয়েছে। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট কারে উঠছে। ওই গাড়ি ক্লু হয়ে দাঁড়ায়। তার নম্বর প্লেট বিভিন্ন টোল প্লাজায় পাঠাতেই সেখানকার ক্যামেরার সূত্রে জানা যায়, গাড়ির অভিমুখ বিহারের দিকে। গাড়ির মালিক সাদাবের মোবাইলের টাওয়ার একই দিকে ইঙ্গিত দেয়। তার ফোনের কল লিস্ট থেকে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, হারুন দিল্লিতে বোনের সঙ্গে কথা বলছে। তদন্তকারীরা অনুমান করেন, হয়তো দিল্লিতেই যাচ্ছে দু’জন।
হাওড়া সিটি পুলিশের এসি নর্থ (১) শেখ হাবিবুল্লা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ম্যানুয়াল সোর্স ও আর প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে দু’জনকে ধরতে। ভিন রাজ্যে যাওয়ার পর সেখানকার পুলিশের সাহায্য নিয়ে একাধিক রাস্তা ও রেল স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, তারা দিল্লিতেই রয়েছে। সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে হারুন ও রোহিত।
গ্রেপ্তারের পর দু’জনের দাবি, তোলাবাজি নিয়ে গোলমাল থেকেই তারা খুন করেছে শফিককে।