


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বিহারে এক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শার্প শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করা হল যাদবপুর থেকে। পেয়িং গেস্ট হিসেবে যাদবপুরের বিক্রমগড় এলাকায় থাকছিল আকাশ গুপ্তা নামে বিহারের ওই কুখ্যাত ডন। এখানে একটি কাপড়ের দোকানে কাজও জুটিয়েছিল সে। মোবাইলের সূত্র ধরে কলকাতায় এসে শনিবার রাতে তাকে বিক্রমগড় থেকে গ্রেপ্তার করে বিহার পুলিশের বাহাদুরপুর থানা। তার বিরুদ্ধে বিহারে ডজনখানেক মামলা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল বিহারের বাহাদুরপুর এলাকায় বান্টি কুমার নামে এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। মাথায় গুলি করার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে দেহ বস্তায় ভরা হয়। এরপর সেটি ফেলে দেওয়া হয় বড় নর্দমায়। দেহ উদ্ধারের পর মৃতের পকেটে থাকা আধার কার্ড দেখে শনাক্তকরণ করে বাহাদুরপুর থানা। অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। জানা যায়, খুন হয়ে যাওয়া বান্টিও একজন মাফিয়া। অপরাধের সূত্রেই তার সঙ্গে আর আকাশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এমনকি, কাউকে খতম করার জন্য দু’জনে একসঙ্গে ‘সুপারি’ নিত বলে জানা যায়।
বান্টির হত্যাকারীকে খুঁজতে বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। যে রাস্তা দিয়ে বান্টিকে নিয়ে আসা হয়েছিল, তা চিহ্নিত করার পর সেই ‘ট্রেল’ ধরে খুনের অকুস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শার্প শ্যুটার আকাশ গুপ্তাকে গুলি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তার খোঁজ শুরু করলে বিহার থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। মোবাইল বন্ধ করে দেয়। সিম নষ্ট করে ফেলে। প্রায় দু’বছর তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। তার বাড়ির ইলেকট্রিসিটি বিল হাতে আসে তদন্তকারীদের। জানা যায়, সেই সংযোগ তার মায়ের নামে নেওয়া। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মায়ের আধার নম্বর নাম পান তদন্তকারীরা। সেই আধারের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, কলকাতার একটি নম্বর থেকে ওই ফোনে ঘনঘন কল আসছে। নম্বরের লোকেশন পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর এলাকায়। অভিযুক্তের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর ছেলে কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছে। এরপর শনিবার বিক্রমগড়ের একটি ঘর থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করে বিহার পুলিশ।
তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বছর দেড়েকের বেশি সময় সে কলকাতায় রয়েছে। এখানে তার এক বন্ধু আছে। তার মাধ্যমেই সে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকার ব্যবস্থা করে। নথি হিসেবে নিজের আসল আধার সে দেখায়। কিছুদিনের মধ্যে একটি কাপড়ের দোকানে কাজও জুটিয়ে ফেলে। বিহার পুলিশের দাবি, দু’হাতে আগ্নেয়াস্ত্র চলোতে দক্ষ সে। তার নিজস্ব গ্যাং রয়েছে। বিহার সহ গোটা দেশেই ‘সুপারি’ নিয়ে খুন করে বেড়ায় সেই গ্যাং। পুলিশকে ধৃত জানিয়েছে, বখরা সংক্রান্ত বিবাদের কারণেই বান্টিকে সে খুন করে।