Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মাওবাদীদের তাড়িয়ে এলাকা শান্ত রাখতে চলছে পুলিসের টহল

ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মাওবাদীদের তাড়িয়ে এলাকা শান্ত রাখতে চলছে পুলিসের টহল
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: এরাজ্যের সীমান্তবর্তী ঝাড়গ্রাম এলাকায় মাওবাদীরা বহু বছর আগেই পাততাড়ি গুটিয়েছে। তবুও প্রান্তিক এলাকায় পুলিসের ভারী বুটের শব্দে এখনও ঘুম ভাঙছে গ্রামবাসীদের! জঙ্গল লাগোয়া গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে পুলিসি টহলদারি, রুটমার্চ ও নাকা চেকিং। ঝাড়গ্রাম এলাকা শান্ত। কিন্তু পাশের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে মাওবাদীদের জন্য পুলিসি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিস জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদীদের কিছু লিঙ্কম্যান বিতাড়িত হয়ে সীমান্তবর্তী ঝাড়গ্রামের দু’একটি গ্রামে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে থেকে তারা বেকার যুবকদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এলাকায় পুলিসের নজরদারি, টহল বাড়লেই তারা ঝাড়খণ্ড পালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঝাড়গ্রাম এলাকায় যাতে তারা কোনওভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তা নিয়ে সতর্ক রয়েছে জেলা পুলিস ও প্রশাসন। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিসি অভিযান বেড়েছে ।

Advertisement

জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (অপারেশন) গোলাম সারোয়ারকে এই নিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও তিনি কোনও উত্তর দেননি। তবে এই নিয়ে সিআরপিএফের এক অফিসার বলেন, জেলা পুলিস থেকে সাপ্তাহিক আমাদের  এরিয়া ডমিনেশন করে দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক আমরা বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ, অভিযান, নাকা চেকিং, তল্লাশি এগুলি করছি। আমাদের ঝাড়গ্রাম এলাকা শান্ত। কিন্তু ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের জন্য পুলিসের অপারেশন জারি আছে। সেখান থেকে কিছু মাওবাদী আত্মীয়ের বাড়িতে আসে। তারা নতুন করে বেকার ছেলেমেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে। এই অভিযান ও রুট মার্চ বন্ধ থাকলেই তারা চলে আসছে। ফলে বিভিন্ন সময় বিশেষ অভিযান আমাদের করতে হয়।
জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায় আপাতত মোট ৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।  মণিপুরে নির্বাচনের জন্য ১৬৯ ব্যাটালিয়ন ও ৬৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের ৭ কোম্পানি বাহিনী ঝাড়গ্রাম থেকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ১৮৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের ৬ কোম্পানি ও মহিলা সিআরপিএফের ২৩২ ব্যাটেলিয়নের ২ কোম্পানি অর্থাৎ মোট ৮ কোম্পানি এখন ঝাড়গ্রাম জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায়ের দায়িত্ব রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক অফিসার বলেন, মণিপুরের নির্বাচন পর্ব মিটে গেলেই ফের ৭ কোম্পানি বাহিনী ঝাড়গ্রামে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।  ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জামবনীর বুড়িশোলের জঙ্গলে গুলির লড়াইয়ে মাওবাদী নেতা কিষানজির মৃত্যুর পর ঝাড়গ্রাম জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তবুও যে কোন ভোট আসার আগে  মাওবাদী জুজু সামনে আসে। সন্ত্রস্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামনের বছরই বিধানসভা ভোট। তাই এখন থেকেই ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী ঝাড়গ্রাম জেলার নিরাপত্তার ফাঁকফোকর বজায় রাখতে তৎপর জেলা পুলিস। ফলত ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী জামবনী, বেলপাহাড়ী ও ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা এলাকায় পুলিসের বাড়তি টহল ও রুট মার্চ প্রত্যক্ষ করেছেন এলাকাবাসী।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ