


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নৈহাটি লোকাল পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে বিকেল পাঁচটা ২২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে মঙ্গলবার ছাড়ল পাঁচটা ৩৩ মিনিটে। শিয়ালদহ মেইন লাইনে ‘ট্রেন লেট’ কমবেশি এমনই থাকে বলে অভিযোগ নিত্যযাত্রীদের। এই পরিস্থিতিতে শিয়ালদহ ডিভিশন এবার পেতে চলেছে এসি লোকাল ট্রেন। জানা গিয়েছে, এসি’র ভাড়া হবে সাত থেকে ১০ গুণ বেশি। অর্থাত্, তীব্র গরমে নাজেহাল না হতে হলে বেশি ভাড়া গুনলে মিলবে আরাম। এই খবরে কেউ খুশি। কেউ উদাসীন। নিত্যযাত্রীদের এসি ট্রেন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মঙ্গলবার নৈহাটি লোকালে বসেছিলেন এক যাত্রী। বললেন, ‘এত ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন আমাদের পক্ষে যাতায়ত সম্ভব নয়। সকালে যদি সাধারণ ট্রেনের বদলে একটা এসি দিয়ে দেয় তাহলে আবার সমস্যা। এমনি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। দেরি হয়ে যাবে।’ রেল সূত্রে যদিও খবর, এমন হবে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সকাল ন’টা থেকে সাড়ে ন’টার মধ্যে পাঁচটি লোকাল শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ যায়। এসি চালু হলে ওই পাঁচ ট্রেনের সময় কিন্তু পরিবর্তন হবে না। কাজেই সাধারণ ট্রেনের যাত্রীদের সমস্যা কিছু হবে না। কিছু যাত্রীর বক্তব্য, ‘মেট্রোতে উঠে এসি ব্যবহারের অভ্যাস শহরতলির অনেক মানুষের। এবার তাঁদের এসি লোকালের জন্য সুবিধাই হবে।’ আবার অনেকের যুক্তি, ‘এসি, নন এসি দু’ধরনের ট্রেনই থাকুক। ট্যাঁকের জোর যার বেশি, তাঁরা ওই ট্রেনে চড়বেন।’ কেউ বলছেন, ‘এত ভাড়া দিয়ে নিত্যযাত্রীরা এসি ট্রেন ব্যবহার করতে পারবেন না। মহিলা বা বিশেষ করে প্রবীণরা মাঝেমধ্যে যাঁরা ট্রেনে ওঠেন, তাঁরা ফাঁকা থাকবে বলে এসি ব্যবহার করতে পারেন।’ শিয়ালদহর নিত্যযাত্রীরা সঠিক সময়ে ট্রেন না চলাচলের জন্য সর্বদা ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, ‘আগে ট্রেন ঠিক সময় চলুক। তারপর এসি নিয়ে ভাবা ভালো।’ শিয়ালদহ মেইন লাইনের এক হকার বললেন, ‘এসি চলুক। আমরা জিনিসের দাম একটু বাড়িয়ে দেব।’ অনেক যাত্রীই বললেন, ‘আমরা বয়স্ক বা অসুস্থদের কলকাতা নিয়ে আসতে এসি ক্যাব ভাড়া করি। যদি এসি ট্রেন পাই তবে ৪০-৫০ টাকাতে হয়ে যাবে।’ কোন রুটে এসি ট্রেন মিলবে? এখনও তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সব যাত্রীই।