Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পার্থ-জীবনকৃষ্ণ-মানিক একসারিতে, সংগঠক বালু অন্য খাতায়, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিট চর্চা

দুর্নীতির সঙ্গে কোনওভাবেই আপস নয়। এটাই ঘোষিত অবস্থান রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। দলের কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে, তৎক্ষণাৎ সেই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সরিয়ে দিতেও দেখা গিয়েছে নেতৃত্বকে।

পার্থ-জীবনকৃষ্ণ-মানিক একসারিতে, সংগঠক বালু অন্য খাতায়, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিট চর্চা
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: দুর্নীতির সঙ্গে কোনওভাবেই আপস নয়। এটাই ঘোষিত অবস্থান রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। দলের কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে, তৎক্ষণাৎ সেই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সরিয়ে দিতেও দেখা গিয়েছে নেতৃত্বকে। তৃণমূলে তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আইনি পথে নিজেকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করে আসতে হবে। তবে দলের কোনও কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমনটা মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশে থাকতেও দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই দলের অভ্যন্তরে এখন থেকেই কানাঘুষো আলোচনা চলছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কাদের টিকিট দেবে? বিশেষ করে তৃণমূলের অভ্যন্তরে চর্চা আরও বেড়েছে—পার্থ, জ্যোতিপ্রিয়, জীবনকৃষ্ণ ও মানিকের মধ্যে কাদের ভাগ্যে প্রার্থী পদের শিকে ছিঁড়বে?

Advertisement

গত মঙ্গলবার জেলমুক্ত হয়েছেন এবং বেহালার বাড়ি ফিরেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক। বাড়ি ফেরার পর তিনি প্রকাশ্যেই যেসব বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে পার্থ কি আবার ভোটে দাঁড়াবেন? তবে পার্থকে তৃণমূল টিকিট দেবে, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। নিয়োগ দুর্নীতি ইশ্যুতে পার্থর জন্য দলকে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। তাছাড়া পার্থকে সাসপেন্ডও করা হয় ছয়বছরের জন্য। সবেমাত্র তিনবছর তিনমাস পেরিয়েছে। ফলে এখনও দীর্ঘসময় বাকি। তার মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে যাবে। আর সাসপেন্ড ঘোষণা করার দিনই তৃণমূল থেকে বলা হয়েছিল, আইনি পথে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে পার্থকে। সেটা এখনও হয়নি। উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মহাসচিব পদ থেকে সরানোর পর আর কাউকেই ওই পদে বসায়নি তৃণমূল।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এখন জেলবন্দি। নিয়োগ দুর্নীতিতে পরপর দুবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। জীবনকৃষ্ণের জন্য দলকে একাধিকবার অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার এক শীর্ষ তৃণমূল নেতা জানান, জীবনকৃষ্ণ দলের পতাকার মান উঁচু না-করে নিজস্বার্থসিদ্ধি করেছেন। ফলে যে নেতা কেবল নিজেকেই দেখেন, দল বোধহয় ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকেও দেখবে না। 
আলোচনার এই তালিকায় রয়েছেন নদীয়া জেলার পলাশিপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। তিনিও নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হন। এখন জামিনে রয়েছেন। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, মানিকের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। এমনকি দলের জেলা সভাপতির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বিশেষ ভালো নয়। তাছাড়া বিধানসভার শেষ অধিবেশনে মানিককে কোনও বিষয়ে বলতে দেওয়া হয়নি। ইঙ্গিত, মানিকের টিকিট পাওয়া একপ্রকার অনিশ্চিত।
তবে এই তালিকার খানিকটা বাইরেই আছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। রেশন দুর্নীতিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং পরে তিনি জামিনও পান। ২০০১ ও ২০০৬ সালে গাইঘাটা এবং ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে হাবড়া থেকে নির্বাচিত হন বালু। তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক শীর্ষনেতা বলেন, ‘উত্তর ২৪ পরগনায় বালু দক্ষ সংগঠক। দলের জন্য তাঁর লড়াই-সংগ্রাম সকলেই জানেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সুসম্পর্ক তাঁর। ফলে বালুর বিষয়টি দল একবার হলেও আলাদাভাবে বিবেচনা করবে।’ কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে আরও গ্রেফতার হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। কিন্তু কেষ্ট বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হবেন না, এটাই সহজ অঙ্ক। তিনি সাংগঠনিক পরিসরেই সুখী।

সম্পর্কিত সংবাদ