নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০ দিন হয়ে গেল। ২০ ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছে লোকসভা সচিবালয়। এদিকে, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। চলবে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। তাই তার আগেই বিদ্রোহী তৃণমূলিদের কী মর্যাদা দেওয়া হবে, তা নিয়ে লাগাতার আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছে সচিবালয়। তারই মধ্যে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’র মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আরটিআই।
তথ্য জানার অধিকার আইনে বিদ্রোহী তৃণমূলিদের আদতে কী পরিচয় ধার্য হয়েছে, তা জানতে চেয়ে লোকসভা সচিবালয়ে লাগাতার জমা পড়ছে আবেদন। জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই ২০ জন কি এখনও তৃণমূল সাংসদ? এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া)তে কি আদৌ যোগ দিয়েছেন জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আসা ২০ জন? কারণ, লোকসভার ওয়েবসাইটে এখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা দেখাচ্ছে ২৮।
গত ১৪ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবন ২০ আকবর রোডে গিয়ে ১৯ জনের সই করা চিঠি জমা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় ছিলেন বিদেশ। পরে অন্যদিন এসে চিঠিতে সই করেছেন। আরটিআই’য়ের আবেদনে সেই চিঠি প্রকাশ্যে আনার দাবিও করা হয়েছে বলেই লোকসভা সচিবালয়ের বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা এবং তাঁর সচিবালয়।
গত ৮ জুন দিল্লিতে কাকলি, সুদীপবাবুরা জানিয়েছিলেন, ‘আমরা এনসিপিআই’তে যোগ দিচ্ছি।’ এই দলটি নির্বাচন কমিশনের নথিভূক্ত, কিন্তু স্বীকৃত নয়। এমন একটি দলের সংসদে প্রতিনিধিত্বর নজির লোকসভার রেকর্ডে নেই। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। নির্বাচন কমিশন যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দেরই ‘আসল’ তৃণমূল বলে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এই ২০ জন সাংসদ কী করবেন? এনসিপিআই’তে যাবেন নাকি তৃণমূলেই থেকে যাবেন।