


লখনউ: ঋষভ পন্থের সেঞ্চুরির পাল্টা দিলেন জিতেশ শর্মা। তরুণ এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের অপরাজিত ৮৫ রানে ভর করে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৬ উইকেটে হারাল বেঙ্গালুরু। সেই সুবাদে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলবেন বিরাট কোহলিরা (১৯ পয়েন্ট)। বৃহস্পতিবার মুল্লানপুরে তাঁদের প্রতিপক্ষ শীর্ষে থাকা পাঞ্জাব।
লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল পন্থের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। ৫৪ বলে দুরন্ত শতরান হাঁকিয়ে সামারসল্ট সেলিব্রেশন সারেন হোম টিমের ক্যাপ্টেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংসে ভর করে ৩ উইকেটে ২২৭ রান তোলে লখনউ। কিন্তু তখন কে ভেবেছিল পাহাড়প্রমাণ এই স্কোরও জয়ের জন্য কম পড়বে। জবাবে ক্যাপ্টেন জিতেশ শর্মার মাস্টারক্লাসে ৮ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় বেঙ্গালুরু (২৩০/৪)। সঙ্গে প্রথম কোয়ালিফায়ারে জায়গাও। জিতেশের ৩৩ বলে অপরাজিত জয়সূচক ৮৫ রানের ইনিংস সাজানো ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায়। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করলেন মায়াঙ্ক আগরওয়ালও (অপরাজিত ৪১)।
প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকার জন্য এদিন জেতা জরুরি ছিল আরসিবি’র। আর ২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবির জয়ের ভিত গড়ে দেন বিরাট কোহলি। ৩০ বলে ৫৪ রান করেন কিং কোহলি। অপর ওপেনার ফিল সল্টের সংগ্রহ ৩০। তবে রজত পাতিদার (১৪) এবং লিয়াম লিভিংস্টোন (০) দ্রুত আউট হলে চাপে পড়ে যায় বেঙ্গালুরু। তারপর বিরাটকেও ফেরান আভেশ খান। জয়ের জন্য তখনও বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ৫২ বলে ১০৫। যা কার্যত অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু তা সম্ভব করে দেখালেন জিতেশ শর্মা ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। পঞ্চম উইকেটে স্কোরবোর্ডে এই জুটি ১০৭ রান যোগ করে দলকে জয়ের কড়ি এনে দেন। আইপিএলে এটা বেঙ্গালুরুর সর্বাধিক রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও। পাশাপাশি চলতি আইপিএলে লিগ পর্বে সাতটি অ্যাওয়ে ম্যাচেই জিতলেন বিরাট কোহলিরা।
তার আগে একানা স্টেডিয়াম পন্থ ম্যাজিকে বিভোর ছিল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার ব্রিটজকে ১৪ রানে আউট হন। তারপর ক্রিজে এসে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন পন্থ। ২৯ বলে অর্ধশতরানের পর ৫৪ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছন তারকা উইকেটরক্ষকব্যাটার। ২০১৮ সালে আইপিএলে প্রথমবার শতরান করেন পন্থ। এটা তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় উইকেটে মিচেল মার্শের সঙ্গে পন্থ যোগ করেন ১৫২ রান। ৩৭ বলে মার্শের সংগ্রহ ৬৭। এরপর তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুরানের (১৩) সঙ্গে জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন পন্থ।