


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়িয়াহাটে মুষলধারে বৃষ্টি। আবার শ্যামবাজারে পৌঁছতেই আকাশ আলো করা রোদ। ত্রিপল সরিয়ে হাঁকডাক শুরু বিক্রেতাদের। কেউ বলছেন, ‘অথেন্টিক চেহারার রথ। আসুন দেখুন।’ কারও বক্তব্য, ‘দেখে যান রথে লাইট জ্বলছে-নিভছে।’ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ থেকে উত্তর কলকাতা, বাজারগুলিতে রথের দামদর চলল দিনভর। ‘ফিক্সড প্রাইস! বলেন কি? ৫০ টাকা কমাতেই হবে’-বাবার সঙ্গে দোকানদারের বেজায় দর কষাকষি। তার মাঝে পড়ে নাবালক পুত্রের
প্রাণ ওষ্ঠাগত। সে ভাবছে, ‘পছন্দের রথটা
পাব তো? দোকানদার কাকু দুষ্টুমি করছে কেন?’ সে আজ বিকেলে তার নতুন ছোট্ট রথটি সাজাবে। দড়ি ধরে বেরবে পাড়ার গলিতে। বন্ধুদের রেসে হারিয়ে দেবে। এই ভাবনাতেই আপাতত মশগুল।
এ বছর বাজার ছেয়ে গিয়েছে রকমারি ডিজাইনের রথে। কোনও রথ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মতো। তবে এবছর থার্মোকল দিয়ে তৈরি পক্ষীরাজ রথ হিট। বাচ্চারা দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু দাম আড়াই থেকে চার হাজার টাকা। ছেলেমেয়ে কিনতে চাইলেই মা-বাবার মাথায় হাত। এছাড়া মানিকতলায় বিক্রি হচ্ছে বেতের তৈরি রথ। আবার প্লাইউডের রথও দেখা গিয়েছে বিভিন্ন বাজারে। দাম ৩৫০ থেকে শুরু। সাড়ে আটশ সর্বোচ্চ। লেক মার্কেটের এক বিক্রেতা বলেন, ‘বাজার বেশ ভালোই। ঠিকঠাক বিক্রি হচ্ছে। আমার কাছে পুরীর রথ আছে। একতলাগুলো এক হাজার ৬০০ টাকা। দোতলাগুলো দু’হাজার।’ অধিকাংশ ক্রেতার বক্তব্য, ‘গত বছরের থেকে এ বছর দাম অনেকটা বেশি।’ কসবা থেকে লেক মার্কেটে এসেছিলেন সুকন্যা মিত্র। বললেন, ‘ছোট একটা প্লাইউডের রথের দাম বলছে সাড়ে আটশ টাকা। একটুও দাম কমাচ্ছে না। এত দাম কেন এ বছর?’
এ বছর বাজারে থার্মোকলের ও বেতের রথগুলির ডিমান্ড বেশি। সকলেরই চোখ সেদিকে। জগন্নাথ মন্দিরের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সে সব রথে। কোনওটির সামনে আবার পক্ষীরাজ ডানা মেলেছে। কোনওটার সামনে এক জোড়া ঘোড়া দু’পা আকাশে তুলেছে। কিন্তু সেসবের দাম শুনেই মধ্যবিত্তের কপালে ভাঁজ। বেতের রথের দাম হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে শুনে মুখ সেই যে ব্যাজার হল হাতিবাগানের নির্মাল্যবাবুর, বাড়ি এসেও মুড ঠিক হল না। এদিকে ছেলের মুখ গিয়েছে চুপসে। তাহলে কি বাবা এবার রথ কিনে আনবে না? তবে আশঙ্কা দূর করে রথ বাড়িতে এল রাতে। পক্ষীরাজ ঘোড়া জুতে রাখা রয়েছে তাতে। ‘এবার একটা তরোয়াল হাতে এলেই কেল্লাফতে’- ভাবতে ভাবতে ঘুমোল ছেলে। শুক্রবার সকাল থেকে রথ সাজানো শুরু।