


নয়াদিল্লি: সবুজ ঘাসে মোড়া বৈসরণ উপত্যকা। সেই অপরূপ তৃণভূমির গালিচায় তখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রক্তাক্ত দেহগুলি। তখনও থামেনি প্রিয়জন হারানোর কান্না, আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার। তার মধ্যেই চলছে নৃশংস হত্যালীলার ‘উদযাপন’। সেজন্য আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে শূন্যে চলছে একের পর এক গুলি। পাশবিক উচ্ছ্বাসে মেতেছে হামলাকারী পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হামলা পরবর্তী মুহূর্তের এই বেদনাদায়ক চিত্র ফুটে উঠেছে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে একথা জানা গিয়েছে। আর এর মধ্যেই ‘অপারেশন সিন্দুরে’র প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। সেই সঙ্গেই বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এক কর্মশালায় তাঁর সতর্কতা, মান্ধাতার আমলের অস্ত্র দিয়ে আধুনিক যুদ্ধে জেতা যায় না। যুদ্ধে জেতার জন্য ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তি গ্রহণ করা প্রয়োজন। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রশস্ত্রের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন তিনি। জেনারেল চৌহান বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের সময় পাকিস্তান চালকহীন ড্রোন ও দিশাহীন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। যার ফলে ভারতের সামরিক বা অসামরিক পরিকাঠামোর বিন্দুমাত্র কোনও ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের অধিকাংশ সমরাস্ত্রকেই প্রতিহত করা হয়। কিছু আবার অটুট অবস্থায় উদ্ধারও হয়। গতকালের অস্ত্র দিয়ে আজকের যুদ্ধে জয় আসে না। আজকের যুদ্ধে জিততে আগামীকালের প্রযুক্তি প্রয়োজন।’ গোয়েন্দাসূত্রে ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, পহেলগাঁও হামলার ছক যৌথভাবে কষেছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা। এই ‘সিক্রেট মিশনে’র গোপনীয়তা বজায় রাখতে স্থির হয়েছিল, শুধুমাত্র পাকিস্তানি জঙ্গিদের নিয়ে তৈরি হবে হামলাকারী দল। সেখানে কোনও স্থানীয় কাশ্মীরি জঙ্গি রাখা হবে না। হামলার ছক পুরোপুরি গোপন রেখেই শুধুমাত্র আশ্রয়, খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য স্থানীয় জঙ্গিদের সাহায্য নেওয়া হবে। সেই মতোই সুলেমান নামে লস্করের এক কমান্ডারের নেতৃত্বে পাক জঙ্গিদের নিয়ে তিন সদস্যের টিম তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি হামলার দিন ঘটনা পরম্পরা সম্পর্কে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান থেকে। হামলাকারী তিন পাকিস্তানি জঙ্গিকে খাবার ও আশ্রয় সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করা স্থানীয় দু’জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, তিন পাক জঙ্গি যখন গুলি চালাচ্ছে, সাহায্যকারী ওই দুই স্থানীয় ব্যক্তিও তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। হামলাকারীদের আনা বিভিন্ন সরঞ্জামের দেখভাল করছিল তারা।