


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আড়াইশোর বেশি বাজার চলতি ওষুধকে নিম্নমানের বলে চিহ্নিত করল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। সে কথা জানিয়ে দেশের সমস্ত রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলকে চিঠি দিল তারা। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্যদপ্তরের ড্রাগ অ্যালার্টের মাধ্যমে ক্রেতা, খুচরো, পাইকারি বিক্রেতা, ওষুধ কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলকে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ব্যাচের বিভিন্ন কোম্পানির সবশুদ্ধ ২৫৪টি ওষুধ অবিলম্বে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ২৫৪টি ওষুধের মধ্যে ২৫২টি ওষুধ নিম্নমানের। বাকি দু’টি ওষুধ ভেজাল বা জাল গোত্রের। বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। এদিকে একের পর এক ওষুধ সম্পর্কে সতর্কতা জারি হওয়ায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। তাঁদের সাফ কথা, বাজারে চলে আসার পর ওষুধ সম্পর্কে সতর্ক করে লাভটা কী হবে? ওষুধ ধরতে হলে উৎপাদনের জায়গায় ধরুক। খুচরো এবং পাইকারি দোকানে ওষুধ চলে আসার পর অনেকেই সেই ওষুধ ব্যবহার করেন। ফলে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েই যায়।
সূত্রের খবর, সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই ২৫৪টি ওষুধের অধিকাংশই বাজারে বহুল প্রচলিত ওষুধ। বাঙালি ভোগান্তি বা রোগভোগ যেমন, সুগার, প্রেসার, হার্টের অসুখ, গ্যাস-অম্বল, বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন, স্টেরয়েড— কী নেই! ২৪ জুন প্রকাশিত প্রথম নির্দেশনামায় নিম্নমানের ওষুধের প্রথম তালিকায় বিভিন্ন কোম্পানির সুনির্দিষ্ট ব্যাচের ৫৮টি ওষুধের উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে সুগারের পাশাপাশি রেবোপ্রাজল, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, মেট্রোনিডাজোলের মতো জনপ্রিয় ওষুধপত্র আছে। আছে প্যানটোপ্রাজল (গ্যাস), অ্যাজিথ্রোমাইসিন ( অ্যান্টিবায়োটিক) সহ বহুল ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে রেনিটিডিন (বুক জ্বালা, গ্যাস, অম্বল), অ্যামোক্সিসিলিন এবং পটাশিয়াম ক্লাভুলানেট সহ প্রচুর ব্যবহৃত ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক। তৃতীয় তালিকায় রয়েছে জীবনদায়ী ইনজেকশন, বমির ওষুধ, কৃমির ওষুধ। রয়েছে আরও অন্যান্য বহু জীবনদায়ী ওষুধ এবং ইনজেকশন।