Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেড়শো কোটির বেশি টাকা খরচ হয়নি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেই, উঠছে ঢিলেমির অভিযোগ

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বিপুল পরিমাণ টাকা এখনো পড়ে আছে। খরচ করার নিরিখে পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে নানা ঢিলেমি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

দেড়শো কোটির বেশি টাকা খরচ হয়নি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেই, উঠছে ঢিলেমির অভিযোগ
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বিপুল পরিমাণ টাকা এখনো পড়ে আছে। খরচ করার নিরিখে পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে নানা ঢিলেমি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এদের মধ্যে এমন একাধিক পঞ্চায়েত আছে, যেগুলির অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে কোটিরও বেশি টাকা! আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই টাকা তাড়াতাড়ি খরচ করতে না পারলে ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রাপ্য পেতে সমস্যা হতে পারে। তারপরও কেন এমন উদাসীনতা, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই জেলায় শুধু পঞ্চায়েত স্তরেই প্রায় ১৫০ কোটির বেশি টাকা পড়ে আছে। আর জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতি মিলিয়ে অঙ্কটি প্রায় ১০০ কোটি। ফলে সব মিলিয়ে জেলায় এখনো আড়াইশো কোটির বেশি টাকার সদ্ব্যবহার বাকি। 

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যের গড় খরচ হারের নীচেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবস্থান। সম্প্রতি এক পর্যালোচনা বৈঠকে বিষয়টি নজরে আসে। ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াবার জন্য সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলির খরচের পরিমাণ এখনই বৃদ্ধিই একমাত্র সুরাহা। জেলার ১১টি পঞ্চায়েতে ১ কোটির বেশি করে টাকা পড়ে আছে। এই টাকা খরচ করতে সময় লাগবে। কিন্তু অর্থের সদ্ব্যবহারে কেন এতদিনেও গতি আনা যায়নি, প্রশ্ন উঠেছে। বাকি পঞ্চায়েতগুলিরও কোথাও ৫০ লক্ষ, কোথাও-বা ৪০ লক্ষের মতো টাকা খরচ বাকি রয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতের টাকার সদ্ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসন ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে। তাদের আশা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই খরচে গতি আসবে।
সূত্রের খবর, ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের চট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে আড়াই কোটির বেশি টাকা পড়ে আছে। প্রধান রেশমিনা বিবি মল্লিক বলেন, ভোটের কারণে অনেকদিন কোনো কাজ হয়নি। তাছাড়া সরকার বদল হওয়ার পর একটু সমস্যাও হয়েছিল। এখন সব মিটে গিয়েছে। এবার কাজ শুরু হবে। টাকাও খরচ হবে দ্রুত। 
অন্যদিকে, মগরাহাট-১ ব্লকের উস্তি পঞ্চায়েতকে দেড় কোটির বেশি টাকা খরচ করতে হবে। প্রধান জ্যোৎস্না হাজরা বলেন, ভোটের আগে আমাদের পঞ্চায়েতে বিভিন্ন কাজের টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু কোনো ঠিকাদার ওয়ার্ক অর্ডার নেননি। ফলে সবই বাতিল করতে হয়েছে। ভোটের মধ্যে আর কাজ হয়নি। কাজের তালিকা এবার নতুন করেই তৈরি হচ্ছে। তারপর যাবতীয় আলোচনা সেরে নিয়ে টেন্ডার ডেকে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ