দিন দিন দেশের অধিকাংশ জমি দখল করে নিচ্ছিল বহিরাগতরা। আর তাদের সেই সম্প্রসারণে বাধা দিতে পারছিল না অস্ট্রেলিয়ার মূল অধিবাসীরা। পারবে কী করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আদিবাসীদের পক্ষে সঙ্ঘবদ্ধ বহিরাগতদের মোকাবিলা করা ছিল অসম্ভব। তাছাড়া প্রশাসন, ব্যবসা সবই চলে গেল বহিরাগত শ্বেতাঙ্গদের দখলে। আর মূলবাসীদের গায়ে ‘অ্যাবঅরিজিন’ তকমা সেঁটে দিল এই বহিরাগতরাই। জমি জিরেত হারিয়ে মূলবাসীরাই হয়ে পড়লেন প্রান্তবাসী। এই পরিস্থিতিতে আদি বাসিন্দাদের একত্রিত করার কাজে এগিয়ে আসেন পিটার আপাক জুপুরুলা মিলার নামে এক ব্যক্তি। জীবনের অধিকাংশ সময় শিক্ষাদান ও জমির অধিকারের পক্ষে লড়াই করে গিয়েছেন তিনি। তবে তিনি বুঝতে পারেন, সংস্কৃতিই আদিবাসীদের মধ্যে গড়ে তুলতে পারে একতা। আর তাই চালু করেন বারুঙ্গা উৎসব। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরভাগে অবস্থিত এই বারুঙ্গা। আগে এই ভূখণ্ডের নাম ছিল বেসউইক ক্রিক। পরে নাম বদলে হয় বামিলি। তবে আদিবাসীদের উৎসবের জেরে বারুঙ্গা নামটিই পরিচিত হয়ে ওঠে। বারুঙ্গা উৎসবের মাধ্যমেই অস্ট্রেলিয়ায় পুনরুজ্জীবিত হয় আদিবাসীদের সংস্কৃতি। আর সংস্কৃতির মাধ্যমেই জেগে ওঠে আদিবাসী মানুষের স্বাভিমান। প্রতি বছর জুন মাসে হয় এই বারুঙ্গা উৎসব। চলে তিনদিন। উৎসবের মূল আকর্ষণ বারুঙ্গা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আসিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী বর্শা নিক্ষেপ, দড়ি টানাটানির মতো খেলা দেখতে ভিড় করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। এর সঙ্গে জুড়েছে ফুটবল, বাস্কেটবল। আর সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে রয়েছে গল্প বলা, বুল মেডিসিন ওয়ার্কশপ, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা, শিল্প প্রদর্শনী। বর্তমানে এই উৎসব অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ও শ্বেতাঙ্গদের মিলন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আদিবাসী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুঝতে ও তাঁদের সম্মান দেওয়ার কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এই বারুঙ্গা উৎসব। এই উৎসবে সঙ্গীত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঐতিহ্যবাহী ডিজেরিডু গান এবং র্যাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়া হয় এই উৎসবে। অনুষ্ঠিত হয় বয়ন কর্মশালাও। সেখানে মহিলারা একত্রিত হয়ে ঝুড়ি, মাদুর, ব্যাগ বোনেন।



