স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের অস্ত্রের প্রয়োজন। আর সেই অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্ব পড়েছিল হাওড়ার আমতার রসপুর গ্রামের যুবক শ্রীশ মিত্র ওরফে হাবু মিত্রের উপর। সেই সময় ডালহৌসির মেসার্স আর বি রডা নামে একটি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। দিনটি ছিল১৯১৪ সালের ২৬ আগষ্ট। কলকাতা বন্দর থেকে সাতটি গাড়ি করে পিস্তল ও কার্তুজ আসছিল সংস্থার গোডাউনে। মাঝপথে অস্ত্রবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যান শ্রীশ মিত্র। অস্ত্র লুটের সেই পরিকল্পনা আলোড়ন ফেলে দেয় ভারতীয় উপমহাদেশে।
Advertisement
রসপুর গ্রামের ডানপিটে ছেলে হাবুর পড়াশোনার পরিবর্তে শরীরচর্চায় ছিল বেশি আগ্রহ। যদিও ছেলের পড়াশুনার কথা চিন্তা করে বাবা হাবুকে নিয়ে কলকাতার বড়বাজারে চলে আসেন। এখানেই বিপ্লবী বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বিপ্লবীদের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাবুকে। ১৯১৪ সালে রডা কোম্পানি ৫০টি জার্মান পিস্তল ও ৫০ হাজার কার্তুজের বরাত পায়। বন্দর থেকে ডালহৌসি গুদামে অস্ত্র আনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। ২৬ আগষ্ট অস্ত্র নিয়ে গাড়িগুলি ডালহৌসির উদ্দেশে রওনা হলেও একটি গাড়ি ডালহৌসি না গিয়ে পথ বদলে বৌবাজারে বিপ্লবীদের আস্তানায় পৌঁছে যায়। পরদিন ব্রিটিশ পুলিস বৌবাজারে বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দিয়ে রিভলবার ও কার্তুজের বেশিরভাগই উদ্ধার করে। কয়েকজন বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও হাবু মিত্রের নাগাল পায়নি পুলিস। টেগার্টের নেতৃত্বে পুলিস রসপুরে হাবু মিত্রের বাড়িতে ও আমতায় তাঁর মামার বাড়িতে হানা দিলেও হদিশ পায়নি। জানা যায়, ঘটনার পরেই হাবু বিভিন্ন জায়গা ঘুরে রংপুর (অধুনা বাংলাদেশে) চলে যান। সেখানেও ব্রিটিশ পুলিস হানা দিলে হাবু চলে যান অসমে। তারপর আর কোনও খোঁজ মেলেনি হাবুর।



