নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকাল ট্রেনের যাত্রাপথ কাঁটছাট করার প্রতিবাদে শুক্রবার রেল অবরোধের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অশোকনগর স্টেশন। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয় বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিস। পুলিসের লাঠিতে কয়েকজন নিত্যযাত্রী জখম হয়েছেন। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে জখম হন পুলিসের এক এসআই। সকাল ১০টা থেকে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। রেল অবরোধের জেরে যশোর রোডেও তীব্র যানজট তৈরি হয় এদিন।
Advertisement
সকালের দিকে বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকাল ট্রেন বেশ কিছুদিন ধরেই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথে চলছিল। অধিকাংশ দিনই এই ট্রেন বনগাঁ থেকে রওনা হয়ে বারাসতে এসে যাত্রা শেষ করত, এমনটাই অভিযোগ নিত্যযাত্রীদের। বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকালের সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথ নিয়ে গত তিনমাস ধরেই ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকাল টালা পর্যন্ত যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার মাঝেরহাটগামী লোকাল বারাসতে যাত্রাপথ শেষ করার কথা ঘোষণার পর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে যাত্রীদের। শুক্রবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ডাউন মাঝেরহাট লোকাল অশোকনগর রোড স্টেশনে পৌঁছতেই অবরোধ শুরু করেন যাত্রীরা। এর জেরে এদিন সকাল থেকে প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে, দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বনগাঁ জিআরপি ও অশোকনগর থানার পুলিস এসে অবরোধকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। উল্টে বিক্ষোভকারীরা পুলিস কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা এই পরিস্থিতি চলার পর অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিস। নিত্যযাত্রী বিভা সাঁপুই বলেন, আমাদের প্রায়দিন এই ট্রেনে চেপে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে কোনওদিনই যায় না। বেশিরভাগ দিনই বনগাঁ-মাঝেরহাট লোকালকে বারাসতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিনও তাই করা হয়। ফলে চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘রাজ্য সরকার রেলকে চিঠি দিয়ে শুক্রবার সার্কুলার লাইনে ট্রেন বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এ নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘রাজ্য সরকার রেলকে চিঠি দিয়ে শুক্রবার সার্কুলার লাইনে ট্রেন বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’



