Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের বরাদ্দ ১০০ শতাংশ খরচ, রেকর্ড জেলার ১১ পঞ্চায়েতের

অর্থ কমিশনের বরাদ্দ ১০০ শতাংশ খরচ, রেকর্ড জেলার ১১ পঞ্চায়েতের
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের একশো শতাংশ টাকা খরচ করে রেকর্ড গড়ল নদীয়া জেলার এগারোটি পঞ্চায়েত। অতীতে পঞ্চায়েতের তহবিলের টাকা উন্নয়নের খাতে সম্পূর্ণ খরচের ঘটনা জেলায় খুব একটা দেখা যায়নি বলে দাবি প্রশাসনের। শুধু তাই নয়, জেলার আশিটির বেশি পঞ্চায়েত ৯০ শতাংশের বেশি টাকা ইতিমধ্যেই খরচ করে ফেলেছে। তার জেরেই টাকা খরচের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে ফের শীর্ষস্থানে উঠে এল নদীয়া জেলা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে। তার আগে জেলার এই পারফরম্যান্সে খুশি প্রশাসনের আধিকারিকরাও। উন্নয়নের কাজে প্রশাসনের আপোসহীন মানসিকতার জন্যই এই সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। যার ফলে প্রান্তিক এলাকাতেই উন্নয়ন পৌঁছে গিয়েছে। 
Advertisement
নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পঞ্চায়েতের সঙ্গে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে লাগাতার বৈঠক করেছি। যাতে কাজের অগ্রগতি বাড়ে। কিছু পঞ্চায়েত খুব ভালো কাজ করেছে। তাঁরা ইতিমধ্যেই একশো শতাংশ টাকা খরচ করেছে। এইভাবেই আগামী দিনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে‌।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার চারটি মহকুমার মোট সাতটি ব্লকের এগারোটা পঞ্চায়েতে সব মিলিয়ে মোট পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৯ কোটি ৪৫ টাকা খরচ করেছে। কল্যাণী মহকুমার চাকদহ ব্লকের দেউলি এবং কল্যাণী ব্লকের সেগুনা পঞ্চায়েত, তাদের তহবিলে থাকা ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা এবং ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছে। রানাঘাট মহকুমার হাঁসখালি ব্লকের দক্ষিণপাড়া-১ পঞ্চায়েত ৫২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা, মামজোঁয়া পঞ্চায়েত ৭১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা এবং রামনগর বড়োচুপড়িয়া-২ পঞ্চায়েত ৮৭ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা খরচ করেছে। কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার কালীগঞ্জ ব্লকে পানিঘাটা পঞ্চায়েত ১ কোটি ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা, পলাশি-২ পঞ্চায়েত ৬৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের নওপাড়া-১ পঞ্চায়েত ৮২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে তেহট্ট মহকুমার করিমপুর-২ ব্লকের নারায়ণপুর-২ পঞ্চায়েত ৬৪ লক্ষ ১২ হাজার, নতিডাঙা-১ পঞ্চায়েত ৫৭ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা এবং তেহট্ট-২ ব্লকের হাঁসপুকুরিয়া পঞ্চায়েতের ৬৫ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা খরচ করেছে। রাস্তা, হাইমাস্ট লাইট, আইডিএস সেন্টারের মানোন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পার্ক সহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। 
২৪ ডিসেম্বর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে জেলাভিত্তিক অগ্রগতির রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, কোচবিহারকে টপকে নদীয়া জেলা বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে। অর্থ কমিশনের ৮১.৭৯ শতাংশ টাকা খরচ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার কাছে মোট ৩০৭ কোটি টাকা রয়েছে। যার মধ্যে ২৫১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ স্তরে। অন্যদিকে কোচবিহার ৮১.৭১ শতাংশ টাকা, উত্তর দিনাজপুর ৮০ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুর ৭৭.৭৯ শতাংশ এবং আলিপুরদুয়ার ৭৭.৩৮ শতাংশ টাকা খরচ করে ফেলেছে।
৫৩১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র ৩০২ কোটি টাকা খরচ করে তালিকায় সবার নীচে রয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। সেখানে মাত্র ৫৬.৮৪ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। তারপর রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে খরচ হয়েছে ৫৮.৩১ শতাংশ টাকা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ