Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

অরিগামি প্রদর্শনী

অরিগামি প্রদর্শনী
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
অরিগামি শব্দটা বললেই কাগজ ভাঁজ করে নানান শিল্পকর্ম তৈরি করার কথা আমাদের মনে আসে। ইতিহাস থেকে জানা যায় আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে জাপানে এই শিল্পকর্ম শুরু হয়েছিল। জাপানি ভাষায় ‘অরি’ শব্দের অর্থ ভাঁজ বা কোনও কিছু মোড়া, ‘কামি’ মানে কাগজ। তবে ‘কামি’ শব্দটাই জাপানি উচ্চারণভেদে কালক্রমে ‘গামি’ হয়ে ওঠে। আর সেটাই এখন গোটা বিশ্বে প্রচলিত। জাপান থেকে চীন এবং পরে গোটা বিশ্বেই ‘অরিগামি’ শিল্পকলা ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশেও রয়েছে এর কদর। জাপানের এই শিল্পকলা নিয়েই কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সাউথ গ্যালারিতে সম্প্রতি একটি প্রদর্শনী হয়ে গেল। ইন্ডিয়ান অরিগামিস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৭জন শিল্পী। শিল্পীদের মধ্যে বর্ষীয়ান প্রভাস দাশের তৈরি কুকুর, লালপাখি, মাছরাঙার মডেল দর্শকদের নজর কেড়েছে। এছাড়া শান্তা ঘোষের তৈরি সজারু, ঈশিতা সান্যালের দাবা বোর্ড, সৌমেন পালের দু’টি মোরগ, গৌরব ঘোষের তৈরি ঘোড়ার মডেলগুলিতে মুন্সিয়ানার ছাপ রয়েছে। শিল্পী প্রভাস দাশ জানান, নতুন প্রজন্ম এখন মোবাইল, কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের খেলার মাঠে যাওয়ারও সময় নেই। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কাগজ ভাঁজ করে বিভিন্ন রকম মডেল তৈরির মধ্যে যে সৃষ্টির অনাবিল আনন্দ রয়েছে, ছোটদের তার হদিশ দেওয়াই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য। মাত্র তিন বছর বয়সে বাড়িতে বড়দাকে কাগজ দিয়ে বিভিন্ন মডেল তৈরি করতে দেখেছিলেন। সেই থেকেই এই অরিগামির প্রতি আগ্রহ জাগে। এর মধ্যে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পান প্রভাসবাবু। তাই অবসর জীবনেও অরিগামিকে সঙ্গী করে রেখেছেন। এই শিল্পচর্চায় আগ্রহী মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। তাই আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ