তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অনশন ভেঙে তাঁর কণ্ঠেই গান শুনতে চেয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনি অরুন্ধতী দেবী। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে শান্তিনিকেতনে পড়াশুনা করতে এসেছিলেন। সঙ্গীতে শিক্ষাগুরু হিসেবে পেয়েছিলেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার। সহপাঠী পেয়েছিলেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্রের মতো শিল্পীদের। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পীর তকমা পান অরুন্ধতী। রবীন্দ্র সঙ্গীতের অনুবাদও করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ওঠানামা ছিল। ৩৫ বছর বয়সে পুত্র-কন্যাকে নিয়ে প্রভাত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দাম্পত্য ভেঙে বেরিয়ে আসেন। ১৯৫৭ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উত্সবে দেখা হয় তপন সিনহার সঙ্গে। গানের সঙ্গে নানা ধরনের চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। ‘কালামাটি’তে কর্মরতা আদিবাসী মহিলার চরিত্র, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এ ক্রীতদাসীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও ‘পুষ্পধনু’, ‘মানময়ী গার্লস স্কুল’-এ তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। তপন সিনহা ও অরুন্ধতী দেবী একযোগে ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘জতুগৃহ’র মতো বেশ কিছু ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন। পরিচালনাও করেছিলেন বেশ কয়েকটি ছবি। ‘ভগিনী নিবেদিতা’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে সেরা অভিনেত্রীর তকমা পেয়েছিলেন অরুন্ধতী। তারপর ১৯৬৭ সালে ‘ছুটি’ ছবি পরিচালনার জন্য প্রথম পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও একবার বিএফজেএ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অরুন্ধতী দেবীর জন্মশতবর্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।



