নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খোদ অফিসের ভিতরে এক তরুণী সহকর্মীকে ‘প্রেম’ নিবেদন করে কখনও তাঁর টেবিলে লাল গোলাপ, কখনও চকোলেট রেখে যাচ্ছিলেন তরুণ সহকর্মীটি। কিন্তু তরুণী আপত্তি জানালেও ওই তরুণ তাতে দমেননি। উল্টে তাঁকে অফিসের মধ্যেই নানাভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। তরুণী পুলিসে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার ১১ বছর পর মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারক শেখ জাফর আলি অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে দেড় বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারক ওই সাজার সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানারও নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অন্যান্য ধারাতেও ওই যুবকের পৃথক পৃথক সাজা হয়। তবে সমস্ত সাজাই এক সঙ্গে চলবে। এদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ওই স্যুটেড‑বুটেড যুবক হাতজোড় করে কাচুমাচু হয়ে বলেন, ‘ভুল হয়ে গিয়েছে। আর কোনওদিন এই ধরনের কাজ হবে না। আমাকে কম সাজা দেওয়া হোক। এরপরই বিচারক সাজা ঘোষণা করে ওই যুবককে সতর্ক করে দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘ভদ্রভাবে জীবন‑যাপন করুন। এমন কিছু করবেন না, যাতে সমাজে মাথা নত হয়ে যায়। এ ধরনের কাজ করলে আগামী দিনে আদালত আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’ এরপরই ওই যুবক মাথা নিচু করে বলেন, আর কোনদিন এই ধরনের কাজে লিপ্ত হবেন না। সরকারি কৌঁসুলি ত্রিবেণী রেড্ডি জানান, ‘এই ধরনের অপরাধ করলে যে পার পাওয়া যায় না, সেই বার্তাটাই এদিন আদালত আরও স্পষ্ট করে দিল।’ ২০১৩ সালে ওই ঘটনার পর ওই তরুণী পুলিসে অভিযোগের পাশাপাশি তিনি বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দিও দেন। মামলায় সাক্ষ্য দেন মোট চারজন। বিচার চলাকালে ওই তরুণী আদালতে ওই তরুণকে শনাক্তও করেন।



