নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এবার পাঞ্জাবে অপারেশন লোটাসের দ্বিতীয় পর্ব? সেরকমই জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। বর্তমানে সেরাজ্যের রাজনীতিতে শক্তির নিরিখে চার নম্বর স্থানে বিজেপি। তাই ভোটের আগে গেরুয়া শিবির মরিয়া হয়ে উঠেছে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে। শুক্রবার পাঞ্জাবের প্রভাবশালী কংগ্রেস এমপি সুখজিন্দল রণধাওয়া দিল্লিতে এসে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবার পাঞ্জাবে একইদিনে চরণজিৎ সিং চান্নিকেই দলের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করতে হবে এই দাবিতে বিদ্রোহ করেছেন দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ। তাঁরা ইস্তফার হুমকিও দিয়েছেন। বিজেপি আবার এদিনই জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের পাঞ্জাব ইউনিট ভেঙে যাবে। রাহুল গান্ধীকে কেউ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনেই করে না। তাই তিনি নিজেকে হাইকমান্ড মনে করলেও তাঁর মতামতের দাম নেই।
পাঞ্জাবে ‘অপারেশন লোটাসে’র প্রথম টার্গেট ছিল আম আদমি পার্টি (আপ)। তাদের সাত এমপিকে কাছে টেনে নেওয়া হয়েছে আগেই। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদেরও দলত্যাগের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু পাঞ্জাবে কংগ্রেসের শক্তি এখনও যথেষ্ট। সাম্প্রতিক পুরসভা ভোটে আপ প্রথম স্থান পেলেও কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু হাত শিবিরে সাংগঠনিক গোলমাল চরমে। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গেরা বহু চেষ্টা করেও দলের মধ্যে বিবাদ কমাতে পারছেন না। সদ্য পাঞ্জাবে হাত শিবিরে সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। তারপর আরও বেড়েছে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে সচেষ্ট বিজেপি। একঝাঁক কংগ্রেস নেতা, বিধায়ক, এমপিকে নাকি টার্গেট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ-সুখজিন্দলের সাক্ষাতে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিজেপি সাফ বলেছে, কংগ্রেসের ভাঙন সময়ের অপেক্ষা।
যদিও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি নিয়ে সুখজিন্দল রণধাওয়া বলেছেন, এটি নিরাপত্তাজনিত বৈঠক। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগেই তাঁর দেখা করার কথা ছিল। এর সঙ্গে অন্য জল্পনার যোগ নেই। যদিও পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এখন জোরদার চর্চা যে, তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একাংশ বিদ্রোহ করতে পারে। বাংলা, বিহার, ওড়িশার মতো পাঞ্জাবেও কোনোদিন এককভাবে ক্ষমতাসীন হয়নি বিজেপি। সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে মোদির দল এখন মরিয়া।