খোলামেলা বিরুদ্ধ মত দেওয়া যায় ভারতে: মোদি
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, জাপান টাইমস, ডয়েচে ভেল, বিবিসি...কেউ বাকি নেই। বিগত কয়েকদিন ধরে দিল্লির রাস্তায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি অথবা বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের সংবাদ প্রকাশ করেছে তাবৎ বিদেশি মিডিয়া। বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের আক্রমণ, ধরপাকড়, গ্রেপ্তার নিয়ে যথেষ্ট কঠোর শব্দাবলি ব্যবহার করা হয়েছে। অডিয়ো ভিস্যুয়াল কিংবা পোর্টাল সর্বত্র দেখা গিয়েছে এই সংবাদ। স্বাভাবিকভাবে বিজেপি তথা মোদি সরকারের কাছে বিষয়টি বেশ অস্বস্তির। সংঘ পরিবারের একাংশ প্রচার করে চলেছে, এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে বিদেশি হাত। বিদেশ থেকে আর্থিক তহবিল আসছে যাতে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যায়। এই প্রচারের সঙ্গেই এই বিদেশি মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনার সুর। এহেন আবহে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় গণতন্ত্রের জয়গান গাইলেন। তাও আবার বিদেশি মিডিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, ভারত তো গণতন্ত্রের জন্মদাত্রী মা। ভারতের উদারতা ‌ও গণতন্ত্রকে মোদি উদাহরণযোগ্য হিসাবে বর্ণনা করেন। সংবাদ মাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক। ভারতে যে কোনও বিষয়ে অবাধে এবং খোলামেলা তর্কবিতর্ক হয়। মোদি বলেন, ভারতে অসংখ্য ভাষা, ৮০ হাজারের বেশি সংবাদপত্র ও পত্রিকা, এক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, ৫০ কোটি ইউটিউব ব্যবহারকারী, ৫০ কোটি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী। যে কোনও ইস্যুতে ভারতে সকলেই নিজের মতপ্রকাশ করতে পারে। মোদির ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ভারতবাসীকে যে কোনো বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করার সুযোগ উপহার দিয়েছে। যদিও যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখানোর স্থান ছিল ১৯৯৩ সাল থেকে। গত কয়েকদিনের বিক্ষোভের জেরে সেই যন্তরমন্তরে কোনওরকম প্রতিবাদ দেখানোকে স্থায়ীভাবেই বেআইনি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিক্ষোভ চলাকালীন দেখা গিয়েছে রাস্তায় হাঁটলেও আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার মোদি যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবি করেছেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, যেভাবে সাংবাদিকদের দিল্লির আন্দোলনে হেনস্তা করা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

Advertisement