Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

অনুপ্রেরণা ঠাকুরদা

অনুপ্রেরণা ঠাকুরদা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরা জেলার ধূলিহর গ্রামে জন্মেছিলেন মনোজ মিত্র। শৈশবে মনোজ দেখেছেন, গ্রামজুড়ে নাটকের পরিবেশ। অভিনয় দেখতে পছন্দ করতেন অধিকাংশ গ্রামবাসী। অনেকে অভিনয়ও করতেন। মনোজবাবুর ঠাকুরদা অন্নদাচরণ মিত্র ছিলেন ঘোর থিয়েটার বিরোধী। তবে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য গ্রামের সিংহভাগ মানুষের কথা ভেবে তাঁদের বাড়িতেই থিয়েটারের সেট রাখা থাকত। সেই সমস্ত জিনিস, প্রপস, দৃশ্যপট দেখে ছোটবেলা কাটিয়েছেন মনোজবাবু। তাঁদের বাড়ির মুখে ছিল একটি পুজোর দালান। সেখানেই সব নাটক হতো। আর পাঁচজনের কথা ভেবে ঠাকুরদাকে এসব মেনে নিতেই হতো। এই থিয়েটার বিরোধী ঠাকুরদাকে নিয়েই একটি নাটক লিখেছিলেন মনোজবাবু—‘মৃত্যুর চোখে জল’। সেটিই তাঁর লেখা প্রথম নাটক। এই নাটকের বৃদ্ধের চরিত্র যে তাঁর ঠাকুরদার অনুকরণে তৈরি, সে কথা নিজেই স্বীকার করেছেন মনোজবাবু। 
Advertisement
১৯৫৯ সাল। দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করছেন মনোজ মিত্র। ততদিনে তাঁদের নাটকের দল তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই সময়ে এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দরকার ছিল একটি একাঙ্ক নাটকের। কোথায় পাবেন মনমতো নাটক! অগত্যা নিজেই কলম ধরলেন। লিখে ফেললেন ‘মৃত্যুর চোখে জল’। ২১ বছর বয়সি মনোজ নিজেই ওই বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু ওই বয়সে বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য যে ট্রেনিং প্রয়োজন, তা ছিল না তাঁর। তবু ছোট থেকে ঠাকুরদাকে যেমন দেখেছিলেন, সেই স্মৃতির উপর ভর করেই মঞ্চে নামার সিদ্ধান্ত নিলেন। গলার আওয়াজ, ঘষটে ঘষটে হাঁটা—অবিকল ঠাকুরদাকেই তুলে আনলেন অভিনয়ে। অন্নদাচরণবাবু দীর্ঘ ২৫ বছর দুরারোগ্য ব্যাধিতে শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুভয়ে সর্বদা উৎকণ্ঠায় কাটাতেন। এই স্মৃতিগুলি কাজে লেগেছিল মনোজ মিত্রের। পার্থপ্রতিম চৌধুরীর পরিচালনায় মঞ্চস্থ হল নাটক। রূপসজ্জা শিল্পী অনন্ত দাসের হাতের জাদুতে সত্যিই যেন বৃদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন মনোজবাবু। থিয়েটার সেন্টারে এই নাটক দেখে প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং অহীন্দ্র চৌধুরী।
সম্পর্কিত সংবাদ