Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬

‘মৃত্যুর সঙ্গে দূরত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ডের’ আতঙ্কে ঘুম উড়েছে জীবিত প্রত্যক্ষদর্শীর, লখনউ অগ্নিকাণ্ডে ধৃত ৪

লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ জন গ্রেপ্তার। মহম্মদ আসিফের আতঙ্কের কাহিনী। কেন ঘটল এই দুর্ঘটনা? বিস্তারিত পড়ুন।

‘মৃত্যুর সঙ্গে দূরত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ডের’ আতঙ্কে ঘুম উড়েছে জীবিত প্রত্যক্ষদর্শীর, লখনউ অগ্নিকাণ্ডে ধৃত ৪
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: ‘আর ১০-১২ সেকেন্ড দেরি করলেই ঝলসে যেতাম।’ মৃত্যুর হাতছানি এড়িয়ে গেলেও আতঙ্কে ঘুম উড়েছে মহম্মদ আসিফের। অন্যদিকে চেষ্টা করেও ছেলে সুখমনিকে না বাঁচাতে পারার আক্ষেপে বাকরুদ্ধ পরবজ্যোত সিং। বারবার তাঁর কানে বাজছে ছেলের বলা শেষ কয়েকটা কথা, ‘বাবা, চারিদিকে আগুন, আমাকে বাঁচাও!’ একই অবস্থা আদিত্য শ্রীবাস্তব, আবদুল রহমান কিংবা নীলেশ কুমারের পরিবারের। 

Advertisement

এঁরা সকলেই সোমবার দুপুরে উত্তর-পশ্চিম লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার অভিশপ্ত কোচিং সেন্টারে ছিলেন। জতুগৃহ থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরেছেন মহম্মদ আসিফ। আদিত্য, সুখমনি কিংবা আবদুলের সেই সৌভাগ্য হয়নি। বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারী আবদুলকে হারিয়ে শোকে পাথর তাঁর পরিবার। এই বাড়িটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে পোষ্যদের ক্লিনিক ছিল। উপরের তলায় ছিল কোচিং সেন্টার। সেখানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গেমিং, অ্যানিমেশন পড়ানো হত। মহম্মদ আসিফ গেমিং স্টুডিওতে কাজ করতেন। তিনি জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আচমকা আগুন লাগে। প্রাণ বাঁচাতে দু’তলা থেকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, হাই-টেনশন তার ধরে ঝুলতে ঝুলতে নীচে নামেন। ঘটনার পর বাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন আসিফ। তাঁর অভিযোগ, ছাদের দরজা বন্ধ ছিল, ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার কাজ করেনি এবং বায়োমেট্রিক দরজাগুলো লক থাকায় অনেকেই বেরোতে পারেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসাতেও ছিল গাফিলতি। তাঁর এক বন্ধু ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পান, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আহতদের চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।  এদিকে, ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করেছে পুলিশ। গাফিলতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। সাসপেন্ড হয়েছেন কয়েকজন সরকারি আধিকারিকও। জানা গিয়েছে, বাড়িটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ছিল। অভিযোগ, বাড়িটির অনুমোদিত বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ লোড ছিল মাত্র ২০ কিলোওয়াট। কিন্তু সরকারি নথি অনুযায়ী, জুন মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.১০ কেভিএ-তে। এই অতিরিক্ত লোডই অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। বাড়িটির গঠন নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন উদ্ধারকারীরাও। তাদের দাবি, বাড়ির ভিতরে প্রবেশের সরাসরি রাস্তা না থাকায় আগুন নেভাতে ও উদ্ধারকাজে বেশ সমস্যা হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলকর্মীরা বাড়িটির ইটের দেওয়াল ভেঙে সেই গর্ত দিয়ে জলের পাইপ ঢুকিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ