সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর মহানন্দা, বালাসন দিয়ে বহু জল গড়িয়ে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ আজও হয়নি। ফলে নতুন করে ইসি বৈঠক যেমন হয়নি তেমনই কোর্টও গঠন হয়নি।
কোর্ট গঠনের জন্য রাজ্যপাল নিযুক্ত পাঁচজন প্রতিনিধি প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি সেই কোর্ট গঠনের জন্য পাঁচজন প্রতিনিধির মধ্যে একজন প্রতিনিধির নাম এসেছে। এখনও চারজন প্রতিনিধির নাম আসা বাকি বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কবে সেই বাকি চারজন প্রতিনিধির নাম ফের আসবে তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এগজিকিউটিভ কাউন্সিল বা ইসি বৈঠক করার ক্ষেত্রে এমনিতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, উপাচার্য না থাকার কারণেই সেটি করা যাচ্ছে না। একই কারণে ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের বৈঠকও করা যাচ্ছে না। কোর্টের বৈঠক ডাকতে হলে রাজ্যের নিযুক্ত প্রতিনিধি প্রয়োজন। কিন্তু, পুরোটাই আটকে রয়েছে উপাচার্য না থাকার করণে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন, আমাদের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল ও কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। পুজোর আগেই আমরা কোর্টের জন্য রাজ্যপাল নিযুক্ত পাঁচ প্রতিনিধির মধ্যে একজন প্রতিনিধি পেয়েছি। বাকি চারজনের নাম চলে এলে ভালো। এমনিতে কোর্ট বা ইসিতে কোরাম হওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে না। কিন্তু, উপাচার্য না থাকার কারণে এসব কিছুই করা যাচ্ছে না।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য যেমন নেই তেমনই দিনকে দিন ছাত্রসংখ্যাও তলানিতে ঠেকছে। শিক্ষক, অশিক্ষক, আধিকারিক সহ সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রচুর পদ ফাঁকা। এবার তো স্নাতকোত্তর স্তরে কিছু বিভাগে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা শূন্য থেকে এক অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছে গিয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন উত্তরের তথ্যাভিজ্ঞমহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছে যে, কয়েক মাসের মধ্যে তা ভয়ানক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।



