নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে জমি সংক্রান্ত সুবিধা পৌঁছে দিতে বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিল নবান্ন। এবার থেকে অনলাইনে জমির খতিয়ান ও প্লট (দাগ) সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একথা ঘোষণা করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘নাগরিক পরিষেবা যাতে স্বচ্ছ, ঝামেলামুক্ত এবং সহজলভ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, খতিয়ান এবং জমির দাগের তথ্য পাওয়ার জন্য পূর্ববর্তী সরকার যে অ্যাপ্লিকেশন ফি আদায় করত তা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মকুব করেছি। এখন থেকে, আপনারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে আপনাদের খতিয়ান এবং জমির দাগের তথ্যের ডিজিটালি স্বাক্ষরিত কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এই জমির ডিজিটাল রেকর্ডগুলি পাওয়ার জন্য কোনোরকম আবেদন ফি বা প্রমাণীকরণ ফি লাগবে না।’ তবে হার্ডকপি বা সার্টিফায়েড কপি নিতে গেলে আগের মতো নির্ধারিত ফি বহাল থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জমির রেকর্ডগুলি পাওয়ার জন্য এতদিন আবেদন ফি বাবদ ১০ টাকা করে নেওয়া হত। এছাড়াও প্রতি পাতা বাবদ দিতে হত অতিরিক্ত ১০ টাকা করে। এবার থেকে অনলাইনে জমি সংক্রান্ত এই তথ্য পেতে আর একটি টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। উপকৃত হবেন প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষ। এই খাতে প্রতি বছর দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত রাজ্যের। অঙ্কটা সামান্য হলেও এই ফি জমা দিতে গিয়ে যথেষ্ট ঝক্কি পোহাতে হত আম জনতাকে। সেই কারণেই শুভেন্দু সরকার ফি মুকুব করে দেওয়ার মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই পদক্ষেপে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন কৃষকরা। এছাড়া অন্যান্য জমির মালিক, ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে আইনজীবীদেরও সুবিধা হবে।
জমির রেকর্ড অব রাইটস (খতিয়ান) এবং প্লট ইনফরমেশনের (জমির তথ্য) ডিজিটাল কপি পাওয়ার জন্য আবেদন ফি এবং প্রমাণীকরণ ফি মকুবের উদ্দেশে ‘বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল ১৯৪৩’-এর বিধি সংশোধনে বৃহস্পতিবার ছাড়পত্র দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। তারই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য কার্যত নজির গড়েছে বলেই মত অভিজ্ঞ আমলাদের। এই বিধি সংশোধনের ফলে অনলাইনে আবেদন করে এক বা একাধিক খতিয়ানের ডিজিটাল কপি বিনামূল্যে পাওয়া যেতে পারে। আবার খতিয়ানের পৃষ্ঠার সংখ্যা যতই হোক, তার জন্য আলাদা করে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। প্লট ইনফরমেশনের সফট কপিও ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডিজিটালি সই করা নথির জন্যও কোনো ‘অথেন্টিকেশন চার্জ’ লাগবে না।