


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুরু হতে চলেছে চারধাম যাত্রা। টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। বুকিংও সম্পূর্ণ। হেলিকপ্টার সার্ভিসের রসিদ এসে গিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। স্টেশন অথবা বিমানবন্দরের বাইরে কোন নম্বরপ্লেটের ক্যাব অপেক্ষা করবে, বিস্তারিত তথ্য মোবাইলে বন্দি। প্যাকেজের টাকা মিটিয়ে নিশ্চিন্তে আপাতত দিন গোনা চলছে বহু তীর্থযাত্রীর। কিন্তু সেসবই সার। এবার সত্যি হিন্দু খতরে মেঁ হ্যায়! কারণ, চারধাম যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে, শনিবার সতর্কবার্তা জারি করল খোদ ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক— ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থানগুলিতে যে কোনও রকম অনলাইন বুকিং এবং রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বৃহৎ প্রতারণা চলছে। দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং ভক্ত তথা তীর্থযাত্রীদের ধর্মীয় আবেগ এবং ভ্রমণ পিপাসু আগ্রহের সুযোগ নিয়ে অসংখ্য প্রতারণা চক্র অনলাইন বুকিংয়ের নামে টাকা আত্মসাৎ করছে। মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) এই মর্মেই সাবধান করেছে পুণ্যার্থীদের।
এমন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই সতর্কবাণী এসেছে, যখন লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী এবং বিদেশি পর্যটকদের চারধাম যাত্রার সব আয়োজন সম্পূর্ণ। উত্তরাখণ্ডের চারটি তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথের দরজা দীপাবলির সময় বন্ধ হয়ে যায়। আবার মন্দিরের দ্বার উন্মোচন হয় অক্ষয় তৃতীয়ার আশপাশে। সেই সময় আসন্ন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ধস, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ইত্যাদি নানাবিধ কারণে বিগত ১০ বছর ধরে বারবার দেবভূমিতে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন চার ধামে যেতে হলে আগেভাগে রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়। পাশাপাশি চলতি বছরের যাত্রার আগেই কেদারনাথ বদ্রীনাথ অছি পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানানো নিষিদ্ধ! মোবাইল নিয়ে যারা রিলস তৈরি করার কথা ভাবছে, তারা যেন না আসে। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এবার অনেক আগে থেকেই তীর্থযাত্রীদের যাবতীয় বুকিং শুরু হয়েছে। আর যাত্রা শুরুর ঠিক আগেই এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! কারণ, কে কোথায় কোন ওয়েবসাইটে বুকিং করে রেখেছে নানাবিধ পরিষেবা, সেটা এখন যাচাই করার পালা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবেই অনলাইন প্রতারণা করা হচ্ছে। হোটেল বা ধর্মশালা, যাত্রা রেজিস্ট্রেশন, প্যাকেজ ট্যুর, ক্যাব অথবা বাস তো বটেই, বৈষ্ণোদেবী কিংবা কেদারনাথের মতো স্থানে হেলিকপ্টার বুকিংয়ের প্রবল চাহিদা থাকে। সেখানেও প্রতারণা চলছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট কিংবা বিজ্ঞাপন অথবা কোনও সার্চ ইঞ্জিনে (অর্থাৎ গুগল) ওয়েবসাইট দেখেই সঙ্গে সঙ্গে কোনওরকম বুকিং যেন করা না হয়। আগে সেগুলি যাচাই করে দেখুন। প্রতারকরা অবিকল আসলের মতো করেই জাল ওয়েবসাইট তৈরি করছে। অতএব ভক্ত, তীর্থযাত্রী, পর্যটক সকলে সাবধান থাকুন। অনলাইনে বুকিং হয়ে গেল মানেই সেটা সত্যি নয়। যাচাই করে নিন!